চট্টগ্রামের লালদিঘিতে আয়োজিত ১১ দলীয় জোটের লংমার্চ সমাপনী সমাবেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে রাজনৈতিক ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে তিনি নির্দিষ্ট একটি দলের প্রতি কড়া সমালোচনা করেন।
সারজিস আলম তার বক্তব্যে বলেন, যে দল একটি সাধারণ বালুর ট্রাক সরাতে ব্যর্থ হয়েছে এবং যারা সরকার ও বিরোধী দল—উভয় ভূমিকায় চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে, তাদের কাছ থেকে আমাদের কোনো পরামর্শ নেওয়ার প্রয়োজন নেই। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, ব্যর্থ সরকারের দেওয়া নসিহত নিয়ে বর্তমান সময়ে রাজনীতি করার কোনো অবকাশ নেই।
গত ১৬ বছরের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আলোচনা করে তিনি সতর্ক করেন যে, যারা ভয় দেখিয়ে এবং আইনের অপব্যবহার করে বিরোধী দলগুলোকে দমনের চেষ্টা করেছে, তাদের করুণ পরিণতি থেকে সবাইকে শিক্ষা নেওয়া শুরু করা উচিত। তিনি আরও বলেন, নিজেদের অরাজকতা এবং ব্যর্থতা থেকে জনগণের দৃষ্টি সরাতে বিরোধী দলের ওপর দোষ চাপানোর যে পুরনো কৌশল, বাংলাদেশের সচেতন মানুষ এখন আর তা বিশ্বাস করে না।
'মার্চ ফর ডেমোক্রেসি'র প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আপনারা বিরোধী দলে থেকে গণতন্ত্রের জন্য মার্চের ডাক দিয়েছিলেন, কিন্তু বাস্তবে একটি বালুর ট্রাকটি পর্যন্ত সরাতে পারেননি। যে দলের এই সক্ষমতা নেই, তাদের উপদেশ আমাদের জন্য অপ্রাসঙ্গিক। তিনি মন্তব্য করেন, ক্ষমতায় আসার মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই বিএনপির সরকার এমন এক চোরাবালিতে তলিয়ে গেছে যে, তারা যত বেশি নড়াচড়া করছে, ততই গভীরে তলিয়ে যাচ্ছে। এই মুহূর্তে তাদের উচিত নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলা দূর করা এবং বিশেষ করে ছাত্রদল ও যুবদলকে সঠিক পথে আনা।
এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আজাদ, এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইজহার, সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাসিনুর রহমান এবং এনসিপি নেতা আসিফ মাহমুদ ভূঁইয়া। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা আ ন ম শামসুল ইসলাম, চট্টগ্রাম অঞ্চল পরিচালক মাওলানা মোহাম্মদ শাহজাহান, কেন্দ্রীয় নেতা শাহজাহান চৌধুরী এমপি, মাওলানা জহিরুল ইসলাম এমপি, এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক ওমর ফারুক, চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমির নজরুল ইসলাম এবং চাকসু ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনিসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।




















