আর্জেন্টিনার হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর ঘোষণা করলেও ক্লাব ফুটবলে লিওনেল মেসির পথচলা থামার লক্ষণ নেই। বরং ইন্টার মায়ামির হয়ে তিনি প্রতিনিয়ত নতুন নতুন রেকর্ড গড়ে চমকে দিচ্ছেন ফুটবল বিশ্বকে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে আটলান্টা ইউনাইটেডের বিপক্ষে ২–২ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচে আবারও নিজের জাদুকরী স্পর্শ দেখিয়েছেন এই কিংবদন্তি। ওই ম্যাচে দুটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যাসিস্ট করে দলের হয়ে লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি।

এই অসাধারণ পারফরম্যান্সের ফলে চলতি মৌসুমে মেসির গোলে অবদান এখন দাঁড়িয়েছে ৩০টিতে। এর মধ্যে তিনি নিজে করেছেন ১৮টি গোল এবং ১২টি অ্যাসিস্ট করেছেন। এই অর্জনের মাধ্যমে এমএলএস (মেজর লিগ সকার) ইতিহাসে তিনটি ভিন্ন মৌসুমে ৩০টি বা তার বেশি গোলে অবদান রাখার এক অনন্য ও ঐতিহাসিক রেকর্ড গড়লেন মেসি। এমএলএস-এর দীর্ঘ ইতিহাসে এই মাইলফলক স্পর্শ করা তিনিই প্রথম খেলোয়াড়।

ম্যাচের শুরু থেকেই ইন্টার মায়ামির আক্রমণভাগের মূল কারিগর হিসেবে ভূমিকা পালন করেন মেসি। খেলার ৩২ মিনিটে তার নিখুঁত এক কর্নার থেকে হেডে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন ক্যাসেমিরো। প্রথমার্ধের শেষ দিকে লুইস সুয়ারেজের গোলেও ছিল মেসির বিশেষ অবদান—চাপের মুখে অত্যন্ত সূক্ষ্ম এক পাসে তিনি তেলাসকো সেগোভিয়াকে খুঁজে নেন, যা দলের আক্রমণকে সচল রাখে।

মাঠের এই প্রভাব এবং ধারাবাহিকতার কারণে টানা তৃতীয়বারের মতো ল্যান্ডন ডোনোভানের রেকর্ড ছাড়িয়ে এমএলএস-এর সেরা খেলোয়াড় হওয়ার দৌড়ে এখন সবচেয়ে এগিয়ে আছেন মেসি। ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, মেসির এই ফর্ম মায়ামিকে লিগের শীর্ষ পর্যায়ে ধরে রাখতে সাহায্য করছে।

আগামী বুধবার রবার্ট লেভানডফস্কির নেতৃত্বাধীন শিকাগো ফায়ারের বিপক্ষে একটি চ্যালেঞ্জিং ম্যাচে খেলবে ইন্টার মায়ামি। এরপর আগামী শনিবার ন্যাশভিলের সঙ্গে আরও একটি বড় ম্যাচ অপেক্ষা করছে তাদের। যদিও আন্তর্জাতিক ফুটবলের অধ্যায় শেষ হয়েছে, তবে ক্লাব ফুটবলে মেসির গল্প যে এখনো বাকি এবং তিনি আরও অনেক চমক বাকি রেখেছেন, তা এই পারফরম্যান্সই বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছে।