ফরিদপুরের নগরকান্দায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের লংমার্চ আয়োজনের তীব্র সমালোচনা করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও ফরিদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য শামা ওবায়েদ। বিরোধী দলের বিশাল গাড়িবহরের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, একদিকে যখন বলা হচ্ছে দেশে তেল ও গ্যাসের তীব্র সংকট, অন্যদিকে কীভাবে হাজার হাজার গাড়ি নিয়ে লংমার্চ করা সম্ভব হচ্ছে? তিনি সরাসরি প্রশ্ন করেন, এই গাড়িগুলো কি তেলে চলে নাকি পানিতে?

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নগরকান্দায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসেবে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এই কর্মসূচির শুরুতে শামা ওবায়েদ মাহেন্দ্র নারায়ণ একাডেমি-সংলগ্ন এলাকায় বৃক্ষরোপণ করেন। এরপর তিনি একটি শোভাযাত্রায় অংশ নেন, যা মাহেন্দ্র নারায়ণ একাডেমি চত্বর থেকে শুরু হয়ে উপজেলা ভূমি অফিস চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রা শেষে ভূমি অফিস-সংলগ্ন পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন তিনি। এরপর বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সমবেত নেতাকর্মীদের সামনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি তাঁর ক্ষোভ ও মতামত ব্যক্ত করেন।

বক্তব্যে শামা ওবায়েদ বলেন, বিরোধী দলগুলোও আসলে সরকারেরই অংশ। তাই তাদের এই বিশাল আয়োজনের পেছনে যে বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে, তার হিসাব সাধারণ জনগণ জানতে চায়। তিনি বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানান, রাজপথে লংমার্চ করে সময় ও জ্বালানি নষ্ট না করে তারা যেন সংসদে এসে গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে তাদের দাবি-দাওয়া উত্থাপন করে। তাঁর মতে, সংসদই হলো সমস্যা সমাধানের সঠিক এবং সাংবিধানিক জায়গা। সেখানে তর্ক-বিতর্ক ও আলোচনার মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধভাবে সকল সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।

জুলাই সনদের বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন বিরোধী দল জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে লংমার্চ করছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, যদি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হয়, তবে তা বিএনপি সরকারের হাত ধরেই বাস্তবায়ন হবে। তিনি পুনরায় প্রশ্ন করেন, যারা একদিকে তেল ও গ্যাসের সংকটের জন্য সরকারকে দায়ী করছেন, তারা কীভাবে এক থেকে তিন হাজার গাড়ির বহর নিয়ে লংমার্চ করছেন? তিনি বলেন, সরকারি ও বিরোধী দল উভয়েরই উচিত রাজনৈতিক মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নেমে জনগণের কল্যাণে কাজ করা।

দেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করার বিষয়ে সতর্ক করে শামা ওবায়েদ বলেন, দেশে গণতন্ত্র ফিরে এসেছে, তবে ষড়যন্ত্র এখনো থেমে নেই। বিভিন্ন মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। বিশেষ করে কৃষকদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে এই বলে যে, দেশে সারের সমস্যা রয়েছে। তবে তিনি দৃঢ়ভাবে জানান, বাংলাদেশে সারের কোনো সমস্যা নেই এবং এটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন অপপ্রচার।

বিগত সরকারের সমালোচনা করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছর শেখ হাসিনার সরকার জ্বালানি খাতে ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি করেছে। তারা বড় বড় বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করলেও সেই বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করেনি। এমনকি দেশের ভেতরে যে পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস মজুত ছিল, তা উত্তোলনের কার্যকর প্রচেষ্টাও তারা নেয়নি। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, গত দেড় বছরে ইউনূস সরকারও এই খাতের দৃশ্যমান উন্নতি করতে পারেনি। তাঁর মতে, ১৭ বছরের দীর্ঘমেয়াদী আর্থিক অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা মাত্র ছয় মাসে দূর করা সম্ভব নয়।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে শামা ওবায়েদ দাবি করেন, বর্তমান বিএনপি সরকারের আমলে আইন বিভাগ ও বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে। তিনি বলেন, বিগত স্বৈরাচার সরকারের প্রকৃত অপরাধীদের সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বিচার করা হয়েছে এবং তাদের দেশের মাটিতে ফেরত এনে সাজা ভোগ করতে হবে। তবে তিনি এই বিষয়ে সতর্ক করেন যে, যারা কোনো অন্যায়, খুন বা অবিচার করেনি, তাদের যেন অন্যায়ভাবে বিচারের সম্মুখীন হতে না হয়। দোষীদের যথাযথ বিচার নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য বলে তিনি জানান।