সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের ই-পাসপোর্ট জটিলতা, অপহরণ, নির্যাতন এবং দালাল চক্রের প্রতারণার মতো গুরুতর সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তা সমাধানে বিশেষ গবেষণা চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী নুরুল হক নুর। প্রবাসীদের কেবল কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাই নয়, বরং তাদের সামগ্রিক কল্যাণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে দেওয়া হচ্ছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে কার্যপ্রণালী-বিধির ৭১ বিধির আওতায় দেওয়া একটি মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া ‘সৌদিসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের প্রবাসীদের সমস্যা সমাধান প্রসঙ্গে’ এই নোটিশটি উত্থাপন করেন। নোটিশটিতে প্রবাসীদের সামগ্রিক দুর্দশার কথা উল্লেখ করে ১০টি প্রধান বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়। এর মধ্যে অন্যতম ছিল ই-পাসপোর্ট প্রাপ্তিতে জটিলতা, সৌদি আরবে প্রবাসীদের অপহরণ ও শারীরিক নির্যাতন, দালাল চক্রের মাধ্যমে প্রতারিত হওয়া, দক্ষ জনশক্তি তৈরির অভাব, গামকা (GAMCA) মেডিকেল পরীক্ষায় অনিয়ম এবং বিএমইটির অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি। এছাড়া অবৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির দৌরাত্ম্য রোধ, অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয় হ্রাস, দূতাবাস থেকে সরাসরি সহায়তা প্রদান এবং অসুস্থ ও মৃত প্রবাসীদের জন্য সরকারি সহায়তার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়।
জবাবে মন্ত্রী নুরুল হক নুর সংসদ সদস্যের এই উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, ‘প্রকৃত অর্থে প্রবাসীদের বাস্তব সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। এই তথ্যগুলো সংগ্রহের জন্য বিস্তারিত স্টাডি এবং এক ধরনের গবেষণা করা হয়েছে, যা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।’ তিনি স্বীকার করেন যে, প্রবাসীরা বিভিন্ন প্রতিকূলতার সম্মুখীন হচ্ছেন এবং এই সমস্যাগুলো অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই। মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী প্রবাসীদের কল্যাণে বিশেষ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তাই তাদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির পাশাপাশি সামগ্রিক জীবনমান উন্নয়ন এবং কল্যাণ নিশ্চিত করা সরকারের একটি বড় লক্ষ্য ও অগ্রাধিকার।
প্রবাসীদের জন্য সরকারের গৃহীত পদক্ষেপগুলো বর্ণনা করতে গিয়ে মন্ত্রী জানান, বিভিন্ন দেশের বর্তমান শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি প্রস্তুত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সাথে নিয়মিত অনলাইন মিটিং করা হচ্ছে এবং তাদের প্রকৃত চাহিদা বিশ্লেষণ করে ‘ডিমান্ড ম্যাপিং’ করা হচ্ছে। মন্ত্রী বলেন, ‘অনলাইনে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনার মাধ্যমে আমরা ডিমান্ড ম্যাপিং করছি, যাতে সেই অনুযায়ী আমাদের দেশের জনশক্তিকে দক্ষ করে গড়ে তোলা যায় এবং তাদের বিদেশে প্রেরণ করা যায়।’
নোটিশ প্রদানকারী সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, প্রবাসীরা বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সমৃদ্ধ করে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে। তবে এত অবদান থাকা সত্ত্বেও প্রবাসীরা প্রতিনিয়ত নানা হয়রানি ও জটিলতার মুখোমুখি হচ্ছেন, যা দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন।















