তেল ও গ্যাসের তীব্র সংকট নিরসনে সরকারকে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর পল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ বৈঠকে তিনি এই দাবি উত্থাপন করেন।
বৈঠকে মাওলানা গাজী আতাউর রহমান গভীর উদ্বেগের সাথে বলেন, বর্তমানে তেল-গ্যাসসহ প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তার অজুহাত দেখিয়ে দেশের অসংখ্য শিল্প-কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে লাখ লাখ শ্রমিক হঠাৎ করে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন, যা তাদের এবং তাদের পরিবার-পরিজনের জীবন-জীবিকাকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, দেশের সামগ্রিক শিল্প ও অর্থনীতির জন্য এই পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং ঝুঁকিপূর্ণ।
শ্রমিকদের দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে অভিহিত করে তিনি উল্লেখ করেন, শ্রমিকদের কঠোর পরিশ্রম ও ঘামের বিনিময়েই শিল্প-কারখানাগুলো সচল থাকে এবং জাতীয় অর্থনীতি সামনের দিকে এগিয়ে যায়। তবে জ্বালানি সংকট, গ্যাস ও বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহ, উৎপাদন ব্যাহত হওয়া এবং সামগ্রিক অব্যবস্থাপনার কারণে একের পর এক কলকারখানা বন্ধ হয়ে গেলে তার সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে দেশের অর্থনীতির ওপর। এই পরিস্থিতির ফলে বেকারত্বের হার বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে এবং সামাজিক অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
একই বৈঠকে দলের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা নেছার আহমেদ বলেন, কোনো শিল্প-কারখানা বন্ধ করার আগে সরকারকে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট মালিকপক্ষ, শ্রমিক সংগঠন এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে সংকট নিরসনে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি অবিলম্বে শিল্প-কারখানাগুলো সচল রাখতে প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানান। পাশাপাশি বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানাগুলো পুনরায় চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ, শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা এবং তাদের বেতন-ভাতা সুরক্ষার বিষয়ে জোর দেন। শিল্পখাতের দীর্ঘমেয়াদি সংকট নিরসনে একটি সমন্বিত ও দূরদর্শী পরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
বিশেষ এই বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমদ আব্দুল কাইয়ুম, শ্রমিক আন্দোলনের সহ-সভাপতি মুহাম্মাদ সিদ্দিকুর রহমান, হারুন অর রশীদ, জয়েন্ট সেক্রেটারি জেনারেল এইচ এম রফিকুল ইসলাম, ওবায়েদ বিন মোস্তফা, শাহ জামাল, সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল উদ্দিন আহমেদসহ দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।















