সাতক্ষীরার কলারোয়ায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীকে দীর্ঘ সময় ধরে ধর্ষণ এবং পরবর্তীতে গর্ভপাত করানোর অভিযোগ উঠেছে মনিরুল ইসলাম নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত মনিরুল উপজেলার কেড়াগাছি গ্রামের আশা গাজীর ছেলে। অন্যদিকে, ভুক্তভোগী নারী উপজেলার লাঙ্গলঝাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালে কলারোয়া এলাকায় ওই নারীর বিয়ে হয়েছিল এবং তাদের সংসারে বর্তমানে ১৪ বছর বয়সী এক কন্যা সন্তান রয়েছে। ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ অনুযায়ী, গত প্রায় দুই বছর ধরে মনিরুলের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মনিরুল তাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে নিজের বাড়ি এবং বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। এই সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় তিনি গর্ভবতী হয়ে পড়েন। অভিযোগ করা হয়েছে যে, ২০২৫ সালের ২৪ মে সাতক্ষীরার একটি ক্লিনিকে পরীক্ষার পর তার গর্ভধারণের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। তবে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর মনিরুল তাকে পুনরায় বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেন এবং একটি ক্লিনিকে নিয়ে গিয়ে গর্ভপাত করান।

ঘটনার পর মনিরুল বিয়ের প্রতিশ্রুতি অস্বীকার করে বিদেশে চলে যান। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিয়ের দাবিতে অভিযুক্ত মনিরুলের বাড়িতে অবস্থান নেন ওই নারী। সেখানে তিনি ন্যায়বিচার এবং পারিবারিক স্বীকৃতির দাবি জানান। এক পর্যায়ে চরম হতাশায় তিনি আত্মহত্যার হুমকি দিলে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও উত্তেজনা তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে মনিরুলের পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় সাবেক এক ইউপি সদস্যকে ডেকে আনা হয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা মধ্যস্থতা করে জানান, মনিরুল দেশে ফিরলে বিষয়টি আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করা হবে। এই আশ্বাসের পর ওই নারী বাড়িটি ত্যাগ করেন।

এদিকে, এই পুরো ঘটনায় অভিযুক্ত মনিরুলের মা সুফিয়া বেগম অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, "আমার ছেলে এখন বাড়িতে নেই, সে বিদেশে থাকে। তাছাড়া ওই নারীর স্বামী ও সন্তান রয়েছে, এমতাবস্থায় আমার ছেলের সঙ্গে তার বিয়ে কীভাবে সম্ভব? আমার ছেলে বিদেশে থাকে, তার সাথে ওই নারীর কোনো সম্পর্ক নেই।"

বিষয়টি নিয়ে কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান রিমু জানান, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি এবং তাদের কেউ অবহিত করেনি। তবে অভিযোগ পাওয়া গেলে যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।