শাফায়াত হোসেন

রাজধানীর আদাবর থানাধীন শ্যামলী হাউজিং দ্বিতীয় প্রকল্প এলাকায় বরিশাল বিভাগীয় সমাজকল্যাণ সমবায় সমিতির উদ্যোগে এলাকাবাসীর সঙ্গে এক মতবিনিময় ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সভায় স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা, মাদক, সন্ত্রাস, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধ প্রতিরোধে এলাকাবাসী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আবুল কালাম আজাদ, প্রধান বক্তা ও আদাবর থানা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল বিভাগীয় সমাজকল্যাণ সমিতির নেতা বাবুল তালুকদার। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন আদাবর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল ইসলাম, বরিশাল বিভাগীয় সমাজকল্যাণ সমিতির দায়িত্বশীল শামসুদ্দিনসহ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় এলাকাবাসী।

সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে আদাবার থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম বলেন, একা কোনো পুলিশ কর্মকর্তার পক্ষে একটি এলাকার সব ধরনের অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব নয়। মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাস, কিশোর গ্যাং ও চাঁদাবাজিসহ অপরাধ দমনে পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদেরও সহযোগিতা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, আপনারা পুলিশের সঙ্গে একত্রিত হয়ে এলাকায় কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড যাতে না ঘটে, সেদিকে সতর্ক থাকবেন। অপরাধ প্রতিরোধে সহযোগিতা করা আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব।

তিনি আরও বলেন, মোবাইল ফোনে অবৈধ জুয়া বা জুয়ার অ্যাপস ব্যবহারসহ এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে আবুল কালাম আজাদ বলেন, আগামী ৩০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচনে তিনি নির্বাচিত হলে সাধারণ মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করবেন। এলাকার মানুষের সমস্যা সমাধানে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

এ সময় তিনি স্থানীয় যুবক সাগর আহমেদ অমিত প্রসঙ্গেও বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, অমিত দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তবে কোনো ব্যক্তি অন্যায় বা অপরাধের সঙ্গে জড়িত হলে তার দায় সংগঠন বা অন্য কারও ওপর চাপ প্রয়োগ করা হবে না।

আবুল কালাম আজাদ বলেন, অমিত যদি শ্যামলী হাউজিংয়ের সাধারণ মানুষের সঙ্গে কোনো অন্যায়-অবিচার করে, তাহলে আপনারা আমাদের জানাবেন। ভবিষ্যতে সে কোনো অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত হলে আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, অমিতকে ভালো কাজে উৎসাহিত করা এবং মাদক, চাঁদাবাজি, কিশোর গ্যাং ও ভূমিদস্যুতার বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে ভূমিকা রাখার জন্য দায়িত্বশীল করে গড়ে তোলার চেষ্টা করা হবে।

সভায় বক্তারা বলেন, একটি নিরাপদ ও সুন্দর সমাজ গড়ে তুলতে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর নির্ভর করলে হবে না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

এ সময় বরিশাল বিভাগীয় সমাজকল্যাণ সমিতির নেতৃবৃন্দ বলেন, মানুষের কল্যাণে কাজ করাই তাদের সংগঠনের অন্যতম লক্ষ্য। এলাকার মানুষের যেকোনো সমস্যা সমাধানে সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।

আলোচনা সভায় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, বরিশাল বিভাগীয় সমাজকল্যাণ সমিতির দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ এবং শ্যামলী হাউজিং দ্বিতীয় প্রকল্পের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে এলাকাবাসীর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং অপরাধমুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।