চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মার শাখা ‘মরা নদী’তে ডুবে পাঁচ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে সদর উপজেলার দেবীনগর ইউনিয়নের চর চাকলা গোরস্থানে তাদের জানাজা শেষে পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে দেবীনগর ইউনিয়নের চর চাকলা গ্রামের পাশ দিয়ে প্রবাহিত পদ্মার শাখা ‘মরা নদী’তে গোসল করতে নামে পাঁচ শিশু। পানিতে নামার কিছুক্ষণ পরই তারা একে একে ডুবে যেতে থাকে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শিশুদের কেউই সাঁতার জানত না, যার ফলে তারা দ্রুত পানির গভীরে তলিয়ে যায়। এই সময় স্থানীয় এক নারী শিশুদের হাবুডুবু খেতে দেখে চিৎকার করে আশপাশের লোকজনকে সাহায্যের জন্য ডাকেন। তাঁর চিৎকার শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। অনেক প্রচেষ্টার পর পানির নিচ থেকে পাঁচ শিশুকেই উদ্ধার করা সম্ভব হয়, তবে ততক্ষণে তাদের মৃত্যু হয়েছে।
ঘটনার পরপরই জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। নিহত পাঁচ শিশু একই এলাকার বাসিন্দা এবং পরস্পরের আত্মীয় হওয়ায় এই অকাল মৃত্যুতে পুরো গ্রাম স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। শোকাতুর পরিবারগুলোর আহাজারিতে এলাকায় ভারী শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
দেবীনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাফিজুর রহমান জানান, শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে পানিতে ডুবে মারা যাওয়া পাঁচ শিশুকে পাশাপাশি কবরে দাফন করা হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ জানতে পারে যে পদ্মার শাখা মরা নদীতে পাঁচ শিশু ডুবে মারা গেছে। আনুমানিক দুপুর ১টার দিকে তারা গোসল করতে নদীতে নামে এবং একে একে ডুবে যায়।” তিনি আরও জানান, ডুবে যাওয়ার সময় স্থানীয় এক নারী শিশুদের হাবুডুবু খেতে দেখে আশপাশের লোকজনকে ডাকেন এবং পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করেন। নিহত শিশুদের বয়স ৮ থেকে ১২ বছরের মধ্যে। তারা একই পাড়ায় বসবাস করত এবং পরস্পরের আত্মীয় ছিল। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।


















