২০২৬ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে অনেক তারকা ফুটবলার তাদের অসাধারণ নৈপুণ্য দিয়ে বিশ্বজুড়ে দর্শকদের মুগ্ধ করলেও, বেশ কয়েকজন বিশ্বখ্যাত তারকা ছড়িয়েছেন চরম হতাশা। টুর্নামেন্ট শেষে খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে জনপ্রিয় ক্রীড়া মাধ্যম ‘ব্লিচার রিপোর্ট’ প্রকাশ করেছে তাদের বিশেষ ‘সবচেয়ে বাজে একাদশ’ বা ‘ফ্লপ একাদশ’। এই তালিকায় স্থান পেয়েছেন এমন কিছু নাম, যাদের কাছ থেকে ফুটবল বিশ্ব প্রত্যাশা করেছিল আকাশচুম্বী সাফল্য, কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাস্তব ফলাফল ছিল হতাশাজনক।

এই ফ্লপ একাদশের আক্রমণভাগের নেতৃত্বে রয়েছেন পর্তুগালের কিংবদন্তি ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তার সাথে এই তালিকায় জায়গা পেয়েছেন ইংল্যান্ডের নোনি মাদুয়েকে এবং জার্মানির লেরয় সানে। বিশেষ করে সানের পারফরম্যান্স নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ব্লিচার রিপোর্ট। টুর্নামেন্ট জুড়ে তিনি একাধিক সহজ সুযোগ নষ্ট করেছেন। মাঠের ভেতরে তার সিদ্ধান্তহীনতা এবং ছন্নছাড়া খেলার ধরন তাকে এই ব্যর্থ একাদশে ঠেলে দিয়েছে।

মাঝমাঠের লড়াইয়ে ব্যর্থদের তালিকায় রয়েছেন উরুগুয়ের অধিনায়ক ফেদেরিকো ভালভার্দে এবং পর্তুগালের ভিতিনিয়া। পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে ভালভার্দের পারফরম্যান্স ছিল একেবারেই বিবর্ণ; তিনি একটি গোল বা অ্যাসিস্ট করতে ব্যর্থ হয়ে দলের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেননি। একই অবস্থা ছিল ভিতিনিয়ার। ক্লাব ফুটবলে দুর্দান্ত মৌসুম কাটিয়েও জাতীয় দলের জার্সিতে নিজেকে মেলে ধরতে ব্যর্থ হন তিনি। প্রতিটি ম্যাচেই তার দ্রুত বদলি হয়ে মাঠ ছাড়ার ঘটনাকে তার ব্যর্থ বিশ্বকাপের প্রতিচ্ছবি হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

রক্ষণভাগের কথা বলতে গেলে, জার্মানির গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারকে সবচেয়ে বেশি হতাশাজনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক ফুটবলে অবসর ভেঙে ফিরে এলেও তিনি তার পুরনো ছন্দ ফিরে পাননি। গ্রুপ পর্বের পাশাপাশি নকআউট পর্যায়েও তার একাধিক মারাত্মক ভুল জার্মানির জন্য বিপর্যয় ডেকে আনে। ডিফেন্স লাইনে জায়গা পেয়েছেন ইংল্যান্ডের রিস জেমস, তবে তার ব্যর্থতার মূল কারণ ছিল চোট। সম্ভাব্য ৭২০ মিনিটের মধ্যে তিনি খেলতে পেরেছেন মাত্র ৩১৮ মিনিট, যা তাকে কার্যকর হতে দেয়নি। ব্রাজিলের গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোতে অবস্থানগত ভুলের জন্য তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন। বিশেষ করে নরওয়ের বিপক্ষে আর্লিং হলান্ডকে ফাঁকা হেডের সুযোগ করে দেওয়াকে তার ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় ভুল হিসেবে উল্লেখ করেছে ব্লিচার রিপোর্ট। এছাড়া জার্মানির ডিফেন্ডার জোনাথন তাহ প্যারাগুয়ের বিপক্ষে টাইব্রেকারে প্রথম শটটি উড়িয়ে দিয়ে দলের বিদায় ত্বরান্বিত করেন। অন্যদিকে, ফ্রান্সের লুকাস দিনের মারাত্মক ভুলের সুযোগ নিয়ে স্পেন সেমিফাইনালের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পেনাল্টি পায়।

এই ব্যর্থ একাদশের কোচ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন পর্তুগালের সাবেক কোচ রবার্তো মার্তিনেজ। ব্লিচার রিপোর্টের দাবি, মার্তিনেজ দলের সামগ্রিক কৌশলের চেয়ে কেবল রোনালদোকে কেন্দ্র করেই পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন। এর ফলে দলের সামগ্রিক ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং শেষ ষোলোর পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয় পর্তুগালকে। শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হওয়া স্পেনের কাছে হেরে টুর্নামেন্ট শেষ করে তারা, যা কোচ হিসেবে মার্তিনেজের ব্যর্থতাকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।