আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুরে দ্বিতীয় লং মার্চের ডাক দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শেষে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের সামনে তিনি এই ঘোষণা প্রদান করেন। এ সময় বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে জনগণের দেওয়া রায় উপেক্ষা করা এবং দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ না করার তীব্র অভিযোগ তোলেন জামায়াত আমির।
তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ‘জাতির সঙ্গে যে ওয়াদা সরকার করেছিল, তা পালন করেনি। জনগণের গণরায়কে সরকার চরমভাবে উপেক্ষা করেছে।’ সম্প্রতি বিভিন্ন বিল পাসের সময় জামায়াতের পক্ষ থেকে যে মতামত প্রদান করা হয়েছিল, সে বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান জানান, খুব সামান্য কিছু বিষয় ছাড়া তাদের অধিকাংশ মতামতই সরকার আমলে নেয়নি। নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন না করা হলে সেটিকে জনগণের সাথে প্রতারণার শামিল বলে অভিহিত করেন তিনি।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে তিনি সতর্ক করে বলেন, তৎকালীন পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী নির্বাচনের ফলাফল মেনে না নেওয়ায় দেশে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল এবং শেষ পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। বর্তমান সরকার যদি একইভাবে জনগণের ভোটের রায়কে উপেক্ষা করে, তবে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।
রাষ্ট্রীয় সংস্কারের গুরুত্ব তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, প্রয়োজনীয় এবং কার্যকর সংস্কার বাস্তবায়ন করা হলে কোনো সরকারই ভবিষ্যতে স্বেচ্ছাচারিতা করার সুযোগ পাবে না। তবে সরকার যদি সংস্কার প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করতে ব্যর্থ হয়, তবুও জনগণের রায় থেকে তারা এক চুল পরিমাণ সরে দাঁড়াবেন না। সরকারের সামগ্রিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি বলেন, ‘সরকার যদি ভালো কাজ করে, তবে আমরা অবশ্যই তা সমর্থন করব। কিন্তু যদি খারাপ কাজ করে, তবে তার তীব্র বিরোধিতা করব এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরোধ গড়ে তুলব।’
এছাড়া র্যাব বিলুপ্ত করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) গঠনের বিষয়েও কঠোর সমালোচনা করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘র্যাব জাতির সঙ্গে চরম অন্যায় করেছে, তাই আমরা এর পূর্ণ বিলুপ্তি চেয়েছিলাম। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, পুরাতন সদস্য এবং আগের সব কার্যক্রমই বহাল রেখে কেবল নতুন একটি মোড়ক দেওয়া হয়েছে এসআরবি গঠনের মাধ্যমে।’ একই সঙ্গে সম্পদ বণ্টন আইন নিয়েও তীব্র আপত্তি জানান জামায়াত আমির। তিনি অভিযোগ করেন, কোরআনের বিধানের বিপরীতে গিয়ে সরকার সম্পদ বণ্টন আইন প্রণয়ন করেছে, যা অত্যন্ত দুঃসাহসপূর্ণ। এমনকি ইংরেজ শাসকরাও এমন দুঃসাহস দেখায়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

















