রাজধানী ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীদের নাম অনানুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছে প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলীয় পর্যায়ে একাধিক মনোনয়ন-প্রত্যাশী না থাকায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটিতে সময়ের আগেই প্রার্থী বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দলটি। তবে এই নির্বাচনের ক্ষেত্রে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সঙ্গে কোনো ধরনের জোটগতভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা না করার সিদ্ধান্তও স্পষ্ট করেছে জামায়াত।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র প্রার্থী হিসেবে দলটির মনোনয়ন পেয়েছেন মহানগর আমির সেলিম উদ্দিন। তিনি ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি হিসেবে পরিচিত। উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৬ আসন থেকে জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি পরাজিত হয়েছিলেন। ঢাকা উত্তর সিটির প্রার্থী হিসেবে নাম আসার পরপরই সেলিম উদ্দিন তার নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ শুরু করেছেন। ভোটারদের দোয়া ও সমর্থন কামনায় নিজের ছবি সংবলিত পোস্টার ও ব্যানার ছড়িয়ে দিয়েছেন তিনি এবং বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধির চেষ্টা করছেন।

অন্যদিকে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অনানুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-ছাত্রী সংসদের (ডাকসু) সাবেক ভিপি আবু সাদিক কায়েম। দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতারা মনে করছেন, ডাকসু নির্বাচনে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে তিনি দক্ষিণ সিটি নির্বাচনেও বড় ধরনের সাড়া ফেলতে সক্ষম হবেন। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাদিক কায়েমকে ঘিরে তার সমর্থকরা ব্যাপক প্রচারণা ও কার্যক্রম শুরু করেছেন। বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠানেও তাকে দেখা যাচ্ছে।

কেন্দ্রের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসা সাপেক্ষে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের জানিয়েছেন, দুই সিটি কর্পোরেশনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা না হলেও মূলত সেলিম উদ্দিন ও আবু সাদিক কায়েমই জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। মহানগর থেকে তাদের বাছাই করা হয়েছে, তবে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে চূড়ান্তভাবে তাদের নাম ঘোষণা করা হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, নির্বাচিত এই দুই প্রার্থীই অত্যন্ত জনপ্রিয় এবং তারা মূলত ছাত্র নেতৃত্বের ফসল। এ কারণে তরুণ প্রজন্মের কাছে তাদের বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। এহসানুল মাহবুব জুবায়েরের মতে, বর্তমান সরকারের বিভিন্ন ব্যর্থতার প্রেক্ষাপটে ভোটাররা জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের জনতা হিসেবে গ্রহণ করবেন।