জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে বাংলাদেশের। এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজটি হারিয়েছে টাইগাররা। তবে মাঠের লড়াইয়ের হতাশা কাটতে না কাটতেই জাতীয় দলের জন্য এলো এক দুঃসংবাদ। হ্যামস্ট্রিংয়ের গুরুতর চোটে জিম্বাবুয়ে সফর শেষ হয়ে গেছে অভিজ্ঞ পেসার মোস্তাফিজুর রহমানের। চিকিৎসকদের মতে, পুরোপুরি সুস্থ হয়ে মাঠে ফিরতে বাঁহাতি এই গতি bowler-কে অন্তত চার সপ্তাহ সময় নিতে হবে।

হারারেতে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে বোলিং করার সময় হঠাৎ ডান হ্যামস্ট্রিংয়ে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন মোস্তাফিজ। ছয় ওভার বোলিং করার পর তিনি আর মাঠে থাকতে পারেননি, যা দলের জন্য ছিল একটি বড় ধাক্কা। পরবর্তীতে ৭ জুলাই করা একটি বিস্তারিত স্ক্যান রিপোর্টে দেখা গেছে, তার হ্যামস্ট্রিংয়ে প্রথম মাত্রার পেশির চিড় (Grade 1 tear) ধরেছে। একই সঙ্গে তার হাঁটুতে ক্ষয়জনিত সামান্য কিছু সমস্যাও ধরা পড়েছে। জাতীয় দলের ফিজিও বায়েজিদুল ইসলাম খান নিশ্চিত করেছেন যে, মোস্তাফিজের সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠতে চার সপ্তাহ বা তার বেশি সময় লাগতে পারে। দেশে ফেরার পরপরই তার জন্য বিশেষ পুনর্বাসনপ্রক্রিয়া শুরু হবে।

চোটের কারণে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে খেলতে পারেননি মোস্তাফিজ। আর তার অনুপস্থিতিতেই ১৩ রানে হেরে সিরিজটি নিশ্চিতভাবে খুইয়েছে বাংলাদেশ। আগামী শনিবারের শেষ ওয়ানডের পাশাপাশি সফরের নির্ধারিত তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচেও তাকে পাওয়া যাবে না। সীমিত ওভারের ক্রিকেটে বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের অন্যতম প্রধান অস্ত্র মোস্তাফিজের এই অনুপস্থিতি দলের জন্য এক বিশাল শূন্যতা তৈরি করেছে।

তবে মোস্তাফিজের এই চোট কেবল জাতীয় দলের জন্য নয়, বরং তার ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারের একটি বড় সুযোগের ক্ষেত্রেও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। ইংল্যান্ডের জনপ্রিয় টুর্নামেন্ট 'দ্য হান্ড্রেড'-এ তার অভিষেক নিয়ে এখন সংশয় দেখা দিয়েছে। বার্মিংহাম ফিনিক্স এক লাখ পাউন্ডের বিনিময়ে তাকে দলে নিয়েছে এবং পুরো প্রতিযোগিতায় খেলার জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) থেকেও প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র পেয়েছিলেন তিনি। আগামী ২১ জুলাই থেকে শুরু হতে যাচ্ছে দ্য হান্ড্রেড। কিন্তু চার সপ্তাহের পুনর্বাসন শেষ হতে হতে প্রতিযোগিতার একটি বড় অংশ অতিবাহিত হয়ে যেতে পারে। ফলে প্রথম বাংলাদেশি ক্রিকেটার হিসেবে এই টুর্নামেন্টে খেলার স্বপ্ন পূরণ হতে আরও বিলম্ব হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

জিম্বাবুয়ে সফরে বাংলাদেশের সময়টা মোটের ওপর বেশ খারাপ যাচ্ছে। একমাত্র টেস্টে ইনিংস ব্যবধানে শোচনীয় হারের পর প্রথম দুই ওয়ানডে হেরে সিরিজ হার নিশ্চিত করা। তার ওপর মোস্তাফিজুর রহমানের এই চোট টাইগারদের হতাশার মাত্রা আরও বাড়িয়ে দিল।