বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বের দুই শক্তি ফ্রান্স ও মরক্কো। সেমিফাইনালে ওঠার চূড়ান্ত লড়াইয়ে আজ বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত ২টায় মাঠে নামবে এই দুই দল। তবে ম্যাচের কৌশল এবং খেলোয়াড়দের শক্তির বিশ্লেষণের পাশাপাশি ফুটবল প্রেমীদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে ম্যাচের রেফারিং প্যানেল। কারণ, এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আর্জেন্টিনার অভিজ্ঞ রেফারি ফ্যাকুন্দো তেয়োর কাঁধে, যিনি তার কঠোর সিদ্ধান্ত এবং কার্ড প্রদর্শনের ক্ষেত্রে আপসহীন মনোভাবের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত।
ফুটবল বিশ্বে তেয়োর নাম সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছিল ২০২২ সালের আর্জেন্টাইন ট্রফেও দে কাম্পেওনেসের ফাইনালে। বোকা জুনিয়র্স ও রেসিং ক্লাবের সেই স্মরণীয় ম্যাচে তিনি একাই ১০টি লাল কার্ড দেখিয়ে ফুটবল অঙ্গকে চমকে দিয়েছিলেন, যা পেশাদার ফুটবলের ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত রেফারিং ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। ম্যাচটি ১-১ সমতায় অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর পর ১১৮তম মিনিটে রেসিং ক্লাবের হয়ে জয়সূচক গোল করেন কার্লোস আলকারাস। তবে গোলের পর উদযাপনের মুহূর্তেই দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং শুরু হয় সংঘর্ষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তেয়ো এক পর্যায়ে ৬টি লাল কার্ড দেখান। এর আগে ম্যাচের বিভিন্ন সময়ে আরও চারটি লাল কার্ড দেখানো হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত বোকা জুনিয়র্সের খেলোয়াড় সংখ্যা সাতজনের নিচে নেমে যাওয়ায় ফিফার নিয়ম অনুযায়ী ম্যাচটি আর চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি।
কেবল ওই একটি ম্যাচ নয়, বরং পুরো ক্যারিয়ারজুড়ে কঠোর রেফারিংয়ের জন্য পরিচিত এই আর্জেন্টাইন রেফারি। ২০১২ সালে শীর্ষ পর্যায়ে অভিষেকের পর থেকে এখন পর্যন্ত তিনি দুই হাজারেরও বেশি হলুদ কার্ড এবং ৭৫টিরও বেশি লাল কার্ড দেখিয়েছেন। চলতি বিশ্বকাপেও ইতোমধ্যে দুটি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন তিনি, যেখানে প্রয়োজন অনুযায়ী কার্ড দেখাতে এক মুহূর্ত দ্বিধা করেননি। ফলে ফ্রান্স ও মরক্কোর মতো চরম চাপের ম্যাচে খেলোয়াড়দের শৃঙ্খলা ধরে রাখাই হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
অন্যদিকে, ফ্রান্স শিবিরের জন্য বাড়তি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন মাইকেল অলিসে। কোয়ার্টার ফাইনালের এই ম্যাচে তিনি যদি একটি হলুদ কার্ড পান, তবে ফ্রান্স সেমিফাইনালে উঠলেও নিষেধাজ্ঞার কারণে পরের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তিনি খেলতে পারবেন না। তাই এই লড়াইয়ে প্রতিপক্ষকে সামলানোর পাশাপাশি নিজেদের আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখাও হবে সমান গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মাঠে থাকবেন এমন একজন রেফারি, যিনি নিয়মের প্রশ্নে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়ার জন্য পরিচিত নন।











