আগামী ছয় মাসের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে দুই লাখ কর্মী নিয়োগের যে দাবি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম করেছিলেন, তা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে মালয়েশিয়া সরকার। দেশটির যোগাযোগমন্ত্রী এবং সরকারি মুখপাত্র দাতুক সেরি ফাহমি ফাজিল স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, বাংলাদেশি প্রতিমন্ত্রীর এই বক্তব্য দুই দেশের সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বা দ্বিপাক্ষিক চুক্তির প্রতিফলন নয়।
সম্প্রতি মালয়েশিয়ার মন্ত্রিসভার এক বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ফাহমি ফাজিল বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে কর্মী নিয়োগের বিষয়ে এ ধরনের কোনো আনুষ্ঠানিক সমঝোতা বা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি। ফলে এই বিষয়টি নিয়ে জনমনে যে আলোচনা বা গুঞ্জন ছড়িয়েছে, তা সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর এবং ভিত্তিহীন। তিনি আরও কঠোরভাবে উল্লেখ করেন যে, একজন জুনিয়র মন্ত্রীর একক বক্তব্যকে দুই দেশের সরকারের চূড়ান্ত ও আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হিসেবে গণ্য করার কোনো সুযোগ নেই।
একই সুরে কথা বলেছেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী দাতুক সেরি আর. রামানান। তিনি বাংলাদেশ থেকে দুই লাখ কর্মী নিয়োগের খবরের সত্যতা পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন। রামানান জানান, বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে মালয়েশিয়া সরকার অত্যন্ত সতর্ক এবং তারা এখনো পূর্বনির্ধারিত কোটা ও কঠোর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা অনুসরণ করছে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মাধ্যমে জানা গেছে, বর্তমানে মালয়েশিয়ায় নতুন করে বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে বেশ কিছু কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকর রয়েছে। দেশটির স্থানীয় শ্রমবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি এবং নিজস্ব নাগরিকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নির্ধারিত কোটার বাইরে অতিরিক্ত কর্মী নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
এই পরস্পরবিরোধী তথ্যের পরিপ্রেক্ষিতে, মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানের বিষয়ে কোনো ঘোষণা বা তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে প্রবাসীদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে। যেকোনো তথ্যের ক্ষেত্রে যেন তারা কেবল দুই দেশের সরকারের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি এবং অনুমোদিত কূটনৈতিক মাধ্যমের তথ্যের ওপর নির্ভর করেন, সেই বিশেষ পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।



















