নাগরিক সেবা আরও সহজ, গতিশীল এবং আধুনিক করার লক্ষ্যে পাঁচটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের সঙ্গে পৃথক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো রাজস্ব আদায় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমিয়ে সেবা প্রদানকে আরও সহজতর করা। যে ব্যাংকগুলোর সঙ্গে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে সেগুলো হলো— ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি, কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি, সীমান্ত ব্যাংক পিএলসি এবং জনতা ব্যাংক পিএলসি।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) নগর ভবনে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই চুক্তি সই সম্পন্ন হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। চুক্তির শর্তানুসারে, এখন থেকে ডিএসসিসি এলাকার হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্স ফি এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক ফি নাগরিকরা অনলাইন ও অফলাইন—উভয় মাধ্যমেই পরিশোধ করতে পারবেন। এর ফলে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার ভোগান্তি কমবে এবং রাজস্ব আদায়ের ক্ষেত্রে জবাবদিহিতা ও আধুনিকায়ন নিশ্চিত হবে।

অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, "নাগরিক সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা গড়ে তোলা আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। সেবা গ্রহণ এবং রাজস্ব পরিশোধের প্রক্রিয়া যত সহজ ও স্বয়ংক্রিয় হবে, নগরবাসীর সঙ্গে সিটি করপোরেশনের সম্পৃক্ততা এবং আস্থা তত বৃদ্ধি পাবে। ডিএসসিসিকে একটি যুগোপযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে এবং জনগণের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যেই আমরা এই আস্থাবান পাঁচটি ব্যাংককে সহযোগী হিসেবে বেছে নিয়েছি।"

রাজস্ব আদায়ের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে নিবন্ধিত হোল্ডিংয়ের সংখ্যা মাত্র দুই লাখ ৯০ হাজার, যা প্রকৃত সংখ্যার তুলনায় অনেক কম। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ডিএসসিসি করের হার না বাড়িয়ে বরং নতুন নতুন হোল্ডিংকে করের আওতায় আনার পরিকল্পনা করছে। একইসাথে রাজস্ব আহরণ প্রক্রিয়াকে আরও দক্ষ ও ত্রুটিমুক্ত করতে ডিএসসিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

রাজধানীর সার্বিক উন্নয়নে সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রশাসক ব্যাংকগুলোর প্রতি বিশেষ আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) থেকে ব্যাংকগুলো সিটি করপোরেশনের সংগীত বিদ্যালয়, পাঠাগার, ব্যায়ামাগার, পাবলিক টয়লেট এবং খেলার মাঠের উন্নয়ন ও রাস্তার নান্দনিকতা বৃদ্ধিতে বিনিয়োগ করতে পারে। এতে ঢাকাকে আরও সুন্দর ও বাসযোগ্য করে তোলা সম্ভব হবে।

সমঝোতা স্মারকে ডিএসসিসির পক্ষে স্বাক্ষর করেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান এবং ব্যাংকগুলোর পক্ষে তাদের সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপনা পরিচালকরা। অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ব্যাংকগুলোর উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।