মিসরে একটি চলন্ত রেফ্রিজারেটেড ট্রাক থেকে বিপুল পরিমাণ হিমায়িত মুরগি চুরির ঘটনায় এক সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রের ছয় সদস্যকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। তবে এই চক্রের সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানোর সময় পুলিশের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী বন্দুকযুদ্ধে তিনজন নিহত হয়েছেন এবং আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) কায়রোর একটি ব্যস্ত মহাসড়কে এই দুঃসাহসিক চুরির ঘটনাটি ঘটে। প্রাথমিকভাবে বিষয়টি জানাজানি হয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর মাধ্যমে। পাশ দিয়ে যাওয়া এক গাড়িচালকের ধারণ করা ওই ভিডিওতে দেখা যায়, দ্রুতগতিতে চলতে থাকা একটি রেফ্রিজারেটেড ট্রাকের পেছনে পিকআপ নিয়ে ধাওয়া করছে দুই ব্যক্তি। একপর্যায়ে অত্যন্ত দক্ষভাবে পিকআপে থাকা ব্যক্তিরা চলন্ত ট্রাকের পেছনে উঠে যান। এরপর তারা দ্রুত ট্রাকের পেছনের দরজা খুলে ভেতর থেকে মুরগির বাক্সগুলো বের করে নিজেদের পিকআপে তুলতে থাকেন। পুরো প্রক্রিয়াটি এত দ্রুত এবং নিখুঁতভাবে সম্পন্ন হয় যে, ট্রাকচালক ঘটনার সময় বিষয়টি টেরই পাননি।
তদন্তে জানা গেছে, ঘটনার সময় ট্রাকটিতে একটি কারখানা থেকে নেওয়া প্রায় চার টন হিমায়িত মুরগি ছিল। পরে হিসাব করে দেখা যায়, ওই দুঃসাহসিক অভিযানে ১০৫ কেজির বেশি মুরগি চুরি করা হয়েছে। ভিডিওটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনরা চুরির এই অদ্ভুত ও রোমাঞ্চকর কৌশলকে জনপ্রিয় হলিউড অ্যাকশন সিনেমা ‘ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস’-এর দৃশ্যের সঙ্গে তুলনা করতে শুরু করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি মিসর পুলিশের নজরে আসে এবং দ্রুত তদন্ত শুরু হয়। মিসরের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিবিড় অনুসন্ধানের মাধ্যমে চুরির ঘটনায় জড়িত ছয়জনকে শনাক্ত করা হয়। অবাক করা বিষয় হলো, শনাক্ত হওয়া প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই আগে থেকে বিভিন্ন অপরাধের রেকর্ড রয়েছে।
সন্দেহভাজনদের অবস্থান শনাক্ত করে কায়রো ও কালিউবিয়া এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায় পুলিশ। তবে অভিযানে বাধা দিতে সন্দেহভাজনরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে অতর্কিতে গুলি ছোড়ে। এর ফলে উভয় পক্ষের মধ্যে তীব্র বন্দুকযুদ্ধ শুরু হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সংঘর্ষে তিন সন্দেহভাজন নিহত হন এবং বাকি তিনজনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
অভিযানের পর সন্দেহভাজনদের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র এবং চুরির ঘটনায় ব্যবহৃত পিকআপটি জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে চুরি যাওয়া কিছু হিমায়িত মুরগি এবং অন্যান্য ডাকাতির সঙ্গে সম্পর্কিত বলে ধারণা করা বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র ডাকাতি এবং সরকারি বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলার গুরুতর অভিযোগ আনা হতে পারে। একটি চলন্ত ট্রাক থেকে মুরগি চুরির অদ্ভুত ভিডিও দিয়ে শুরু হওয়া এই ঘটনাটি শেষ পর্যন্ত এক সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের পতন ঘটিয়ে সমাপ্ত হয়েছে।





















