ভারতের অরুণাচল প্রদেশের সীমান্ত এলাকায় চীনা সামরিক বাহিনীর অনুপ্রবেশকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। বেইজিংয়ের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) ভারতীয় ভূখণ্ডে ঢুকে স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের চারণভূমি এবং কৃষিজমি দখল করে নেওয়ায় সীমান্ত সংলগ্ন আপার সুবানসিরি জেলায় তীব্র উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। মূলত স্থানীয় ‘নহ্’ উপজাতি সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে এই গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে, যা বর্তমানে ভারতের রাজনীতি ও গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
অভিযোগ উঠেছে যে, ২০২০ সাল পর্যন্ত যেসব কৌশলগত এলাকা ভারতীয় বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল, তার বড় একটি অংশ এখন সম্পূর্ণভাবে বেইজিংয়ের কবজায় চলে গেছে। স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দাদের দাবি, তাদের পূর্বপুরুষদের পবিত্র তীর্থভূমিগুলো এখন চীনাদের দখলে, যার ফলে তারা সেখানে প্রবেশ করতে পারছেন না। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, ভারতীয় সীমানার ভেতরে ঢুকে চীনা বাহিনী ইতিমধ্যেই উন্নত পাকা রাস্তাঘাট এবং স্থায়ী সামরিক ক্যাম্প তৈরি করে ফেলেছে, যা দীর্ঘমেয়াদী দখলের ইঙ্গিত দেয় এবং ভারতীয় সার্বভৌমত্বের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নিজেদের মাতৃভূমি রক্ষা এবং এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তির আশায় ‘নহ্ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি’ দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছে। এই অনুপ্রবেশের ঘটনাটিকে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিবৃন্দ এবং বিধায়করা পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে দ্রুত একটি উচ্চপর্যায়ের সরকারি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। যদিও স্থানীয়রা ভারতীয় সেনাবাহিনীর সক্ষমতার ওপর আস্থা রাখছেন, তবে চীনা আগ্রাসনের ক্রমবর্ধমান গতির বিষয়ে তারা গভীর সংশয় প্রকাশ করেছেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিতর্কিত আসাফিলা অঞ্চলসহ অন্তত পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত স্থানে চীন তাদের সামরিক নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি প্রতিষ্ঠা করেছে। এর ফলে দক্ষিণ এশিয়ার দুই পারমাণবিক শক্তিধর দেশের মধ্যে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি। তবে এই গুরুতর পরিস্থিতি সত্ত্বেও অরুণাচল প্রদেশ সরকার কিংবা ভারতীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা বিবৃতি পাওয়া যায়নি।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া




















