সিরাজগঞ্জের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের হাজত থেকে এক নাটকীয় ঘটনার মাধ্যমে পালিয়ে গেল এক হাজতি। গত বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে হাতকড়া পরানোর সময় কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে আদালতের দ্বিতীয় তলার বারান্দা থেকে লাফিয়ে পালিয়ে যান আব্দুল মমিন নামে ওই আসামি। পলাতক আসামি আব্দুল মমিন সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার কোবদাসপাড়া মহল্লার বাসিন্দা এবং আব্দুস সবুরের ছেলে।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ অনুযায়ী, চুরি মামলার আসামি আব্দুল মমিনকে জেলা কারাগার থেকে অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজিরা দেওয়ার জন্য আনা হয়েছিল। আদালতের কার্যক্রম শেষে তাকে আদালত ভবনের দ্বিতীয় তলার হাজতে নেওয়া হয়। ঠিক সেই মুহূর্তে এক পুলিশ সদস্য তাকে হাতকড়া পরানোর চেষ্টা করছিলেন। এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে মমিন পুলিশ সদস্যকে ধাক্কা দেয় এবং বারান্দার অরক্ষিত অংশ দিয়ে নিচে লাফিয়ে পড়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।

এই চাঞ্চল্যকর ঘটনার পর আদালত চত্বরে এক অদ্ভুত পরিস্থিতি তৈরি হয়। দীর্ঘ সময় ধরে সাংবাদিকদের তথ্য দিতে গড়িমসি করেন কোর্ট পুলিশের সদস্যরা। দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত আদালত চত্বরে অবস্থান করার পরও পুলিশ কর্মকর্তাদের সাথে সাক্ষাৎ করা সম্ভব হয়নি। অবশেষে বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সদর কোর্টের জিআরও এএসআই জুয়েল হোসেন আসামি পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে তিনি জানান, ঘটনার সময় তিনি সেখানে উপস্থিত ছিলেন না, কেবল বিষয়টি শুনেছেন।

এদিকে, পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারের তাড়াহুড়োয় পুলিশ দিয়ার ধানগড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে নুরনবী নামে এক যুবককে আটক করে নিয়ে আসে। নুরনবী ওই এলাকার আব্দুর রহিমের ছেলে। তবে পরবর্তীতে পুলিশি যাচাই-বাছাই ও তথ্য সংগ্রহের পর দেখা যায়, নুরনবীর সাথে পলাতক আসামির কোনো মিল নেই। ফলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

ঘটনার পর আদালত চত্বরে পুলিশ সদস্যদের ব্যাপক ছোটাছুটি ও অস্থিরতা লক্ষ্য করা যায়। তবে তাদের কেউ সরাসরি তথ্য দিতে রাজি হননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন পুলিশ সদস্য জানান, পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তারে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে এবং সবাই সেই কাজেই ব্যস্ত রয়েছেন।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. আসাদুজ্জামান জানান, পলাতক আসামিকে খুঁজে বের করতে পুলিশের সদস্যরা தீவிர অভিযান চালাচ্ছেন। অন্যদিকে, কোর্ট পরিদর্শক রওশন ইয়াজদানি ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে বলেন, আসামিকে নিয়ে আসার পর তাকে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের দ্বিতীয় তলার হাজতখানায় রাখা হয়েছিল। সেখানে অন্য একজন আসামিকে প্রবেশ করানোর সময় আব্দুল মমিন পুলিশ সদস্যকে ধাক্কা দিয়ে বের হয়ে যান। বারান্দায় কোনো গ্রিল না থাকায় তিনি সহজেই লাফিয়ে পালিয়ে যান। বিষয়টি ইতিমধ্যেই মৌখিকভাবে সদর থানায় জানানো হয়েছে এবং পুলিশ তাকে খুঁজছে। এই ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন।