ভয়াবহ দাবানলে বিপর্যস্ত ইন্দোনেশিয়া: বৃষ্টির আশায় শত শত মুসল্লির ‘ইসতিসকার নামাজ’
ইন্দোনেশিয়ায় ভয়াবহ দাবানলের প্রকোপে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। এই সংকটময় মুহূর্তে বৃষ্টির আশায় রাজধানী জাকার্তায় শত শত মুসল্লি ‘ইসতিসকার নামাজ’ আদায় করেছেন। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত এই বিশেষ নামাজে অংশ নিয়ে আল্লাহর কাছে বৃষ্টির প্রার্থনা জানান তারা। সাধারণত তীব্র খরা ও পানির সংকটের সময়ে বৃষ্টির জন্য মুসলিমরা এই বিশেষ নামাজ আদায় করে থাকেন।
দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দাবানল জ্বলছে। বিশেষ করে সুমাত্রা এবং বোর্নিও দ্বীপের ইন্দোনেশীয় অংশ কালিমান্তানে আগুনের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি। এর ফলে সৃষ্ট ঘন ধোঁয়াশায় লাখ লাখ মানুষ চরম স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়েছেন এবং দূষিত বাতাসের মধ্যে জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন। চলতি মাসে এল নিনো প্রভাবে আবহাওয়া আরও চরম আকার ধারণ করায় দাবানলের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
ইন্দোনেশিয়ার বনমন্ত্রী রাজা জুলাই আন্তোনি জানিয়েছেন, আগস্ট মাসে দেশজুড়ে ৯ হাজারেরও বেশি আগুনের ‘হটস্পট’ শনাক্ত করা হয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দাবানলে ২ লাখ ২ হাজার হেক্টরের বেশি বনভূমি ও কৃষি জমি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে, যার মধ্যে জুলাই মাসেই পুড়েছে প্রায় ৯৫ হাজার হেক্টর এলাকা। এই ভয়াবহ আগুনের ধোঁয়া সীমান্ত ছাড়িয়ে প্রতিবেশী দেশ মালয়েশিয়া ও ফিলিপাইনেও ছড়িয়ে পড়েছে। অনেক এলাকায় বায়ুর মান ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ থেকে ‘বিপজ্জনক’ পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানানো হয়েছে।
দূষিত বাতাসের প্রভাব থেকে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষায় ইন্দোনেশিয়ার ছয়টি প্রদেশে প্রায় ১৪ লাখ শিক্ষার্থীকে অনলাইন ক্লাসে স্থানান্তর করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিমান থেকে পানি ছিটানো এবং ক্লাউড সিডিংয়ের মতো বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি, দাবানলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে ১৯টি কোম্পানির কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পরিদর্শন করছে সরকার। তবে বনমন্ত্রী সতর্ক করে বলেছেন, সেপ্টেম্বর মাসে এল নিনোর প্রভাব আরও তীব্র হতে পারে, যা আগুন নিয়ন্ত্রণ করাকে আরও কঠিন করে তুলবে। এই চরম অনিশ্চয়তার মধ্যেই বৃষ্টির আশায় জাকার্তায় ইসতিসকার নামাজের আয়োজন করা হয়। এর আগে গত ২৫ আগস্ট দাবানলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দক্ষিণ সুমাত্রার পালেমবাংয়ে প্রায় ৩ হাজার মানুষ এই বিশেষ নামাজে অংশ নিয়েছিলেন।



















