নরওয়েজিয়ান গোলমেশিন আরলিং হালান্ডের মাঠের অতিমানবীয় পারফরম্যান্সের রহস্য কেবল কঠোর অনুশীলন বা শারীরিক সক্ষমতায় নয়, বরং এর পেছনে লুকিয়ে আছে রাতের বেলার এক অদ্ভুত বৈজ্ঞানিক রুটিন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আইটিভি নিউজ (ITV News) এবং একটি জনপ্রিয় পডকাস্টে হালান্ড নিজেই তার এই বিশেষ অভ্যাসের কথা জানিয়েছেন, যা ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
হালান্ড প্রতি রাতে ঘুমানোর সময় মুখে এক বিশেষ ধরনের স্কচটেপ বা আঠা লাগিয়ে ঘুমান, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় 'মাউথ টেপিং' (Mouth Taping)। এই পদ্ধতির মূল উদ্দেশ্য হলো ঘুমের সময় মুখ বন্ধ রেখে কেবল নাকের মাধ্যমে শ্বাস নেওয়া নিশ্চিত করা। এর ফলে নাক ডাকার সমস্যা দূর হয়, মুখ শুকিয়ে যাওয়ার প্রবণতা কমে এবং ঘুম হয় অনেক গভীর। কঠোর পরিশ্রমের পর একজন পেশাদার ফুটবলারের শরীরের ক্লান্তি দ্রুত দূর করতে এবং পেশির দ্রুত পুনর্গঠনে এই গভীর ঘুম অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
তবে কেবল মুখে টেপ লাগিয়েই তিনি ক্ষান্ত হন না; নিখুঁত বিশ্রামের জন্য হালান্ড আরও কিছু কঠোর নিয়ম মেনে চলেন। ঘুমানোর ঠিক তিন ঘণ্টা আগে থেকেই তিনি বিশেষ এক ধরনের ব্লু-লাইট ফিল্টারিং চশমা পরেন, যা মোবাইল, ল্যাপটপ বা টিভির স্ক্রিন থেকে নির্গত ক্ষতিকর নীল আলো আটকে দেয়। এর ফলে মস্তিষ্কে ঘুমের হরমোন মেলানটোনিন নিঃসরণ বাধাগ্রস্ত হয় না। এছাড়া তাঁর শোবার ঘরে কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস বা ওয়াই-ফাই সিগন্যাল প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না। একদম শতভাগ প্রাকৃতিক, ঠান্ডা ও অন্ধকার পরিবেশে নিজের শরীরকে সম্পূর্ণ বিশ্রাম দেওয়াই হলো হালান্ডের মাঠ কাঁপানো গতির আসল রহস্য।











