ফুটবল বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী মহাতারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর বিশ্বকাপ যাত্রা শেষ হলো স্বপ্নভঙ্গের চরম হতাশা নিয়ে। স্পেনের কাছে পরাজয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপের মাঠ থেকে বিদায় নিতে হয়েছে পর্তুগালের। তবে এই বিদায়ের ক্ষণে আক্ষেপের চেয়ে নিজের সামগ্রিক অবদান নিয়েই বেশি কথা বললেন পর্তুগালের কিংবদন্তি অধিনায়ক। তার দৃঢ় বিশ্বাস, দেশের জার্সিতে নিজের সামর্থ্যের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছেন বলেই বিবেকের কাছে তিনি এখন সম্পূর্ণ নির্ভার।

স্পেনের বিপক্ষে হেরে ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যাওয়ার পর রোনালদো নিশ্চিত করেছেন, এটাই ছিল তার দীর্ঘ ও বর্ণিল ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ। তবে বিশ্বকাপ জয়ের অপূর্ণতা তার কাছে কিছুটা হলেও পূরণ করেছে ২০১৬ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের সেই ঐতিহাসিক সাফল্য। এই প্রসঙ্গে রোনালদো বলেন, ‘আমি ২০১৬ ইউরো জিতেছি। আমার কাছে সেই শিরোপার মর্যাদা বিশ্বকাপ জয়ের সমান। সেই অর্জন চিরকাল আমার স্মৃতিতে অমলিন হয়ে থাকবে। আগামীকাল নতুন একটি দিন, আর আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’

বিশ্বকাপের ট্রফি অধরা থাকলেও জাতীয় দলের হয়ে রোনালদোর অর্জনের তালিকা মোটেও ছোট নয়। ২০১৬ সালের ইউরোর পাশাপাশি ২০১৯ ও ২০২৫ সালে উয়েফা নেশন্স লিগ জিতেছে পর্তুগাল, যার সফল নেতৃত্বে ছিলেন স্বয়ং রোনালদো। জাতীয় দলের হয়ে ২৩ বছরের দীর্ঘ ও পরিশ্রমী ক্যারিয়ারের দিকে ফিরে তাকিয়ে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, তার আগমনে পর্তুগালের ফুটবল ইতিহাসে আমূল পরিবর্তন এসেছে এবং তার আগে পর্তুগালের কোনো আন্তর্জাতিক শিরোপা ছিল না। পর্তুগিজ অধিনায়ক আক্ষেপের সুরে বলেন, ‘আমি আমার সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। পর্তুগালের হয়ে তিনটি শিরোপা জিতেছি। আমার আগে এই দলের কোনো শিরোপাই ছিল না। তাই এই সাফল্যের জন্য আমার খুশি হওয়ারই কথা।’

তবে অর্জনের কথা বললেও বিদায়ের কষ্ট পুরোপুরি লুকাতে পারেননি রোনালদো। তার মতে, পর্তুগাল আরও ভালো খেলতে পারত, কিন্তু প্রতিপক্ষ হিসেবে স্পেন ছিল বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী দল। রোনালদো স্বীকার করেন, ‘এভাবে বিদায় নিতে হওয়ায় অবশ্যই খারাপ লাগছে। কিন্তু আমি আমার সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি, মাঠে সবকিছু উজাড় করে দিয়েছি। আমরা ভালোই খেলেছি, দলের সামগ্রিক পারফরম্যান্সও খারাপ ছিল না। অবশ্য আরও ভালো করা যেত। তবে স্পেন বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম সেরা দল। আমার বিশ্বাস, তারা ফাইনালে উঠবে, অথবা অন্তত তার খুব কাছাকাছি যাবে।’

বিশ্বকাপের সোনালী ট্রফিটি শেষ পর্যন্ত তার হাতের বাইরেই থেকে গেল। কিন্তু রোনালদোর চোখে জাতীয় দলের হয়ে তিনটি আন্তর্জাতিক শিরোপা, বিশেষ করে ইউরো জয়ের সেই গৌরবময় স্মৃতি, তার দীর্ঘ ফুটবল জীবনের সবচেয়ে গর্বের অধ্যায় হিসেবেই থেকে যাবে। মাঠের লড়াই শেষ হলেও ফুটবল ইতিহাসে তার প্রভাব থাকবে চিরস্থায়ী।