চাঁপাইনবাবগঞ্জে অভিযানের ছদ্মবেশে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে প্রায় ৮০ লাখ টাকা মূল্যের ৪০ ভরি স্বর্ণ আত্মসাতের অভিযোগে পুলিশের এক সদস্যসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার্স মেসে কর্মরত কনস্টেবল জাকির হোসেন এবং আলমপুর এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী। গত শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে তাদের গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ৮ আগস্ট রাজশাহী থেকে গলানো ৪০ ভরি স্বর্ণ চাঁপাইনবাবগঞ্জে নিয়ে আসছিলেন ব্যবসায়ী নিঝুমের দুলাভাই মোহাম্মদ আলী। সদর উপজেলার মরা পাগলা নদীর কালীনগর ব্রিজের পাশে পৌঁছানোর পর কনস্টেবল জাকির হোসেনসহ আরও একজন পুলিশ পরিচয় দিয়ে ওই স্বর্ণ ছিনতাই করে নেন। ঘটনার পরপরই অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে কনস্টেবল জাকির এক মাসের ছুটিতে চলে যান, যাতে তার বিষয়ে সন্দেহ না করা হয়।

তবে ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরার পর তাকে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়। এরপর ঘটনার রহস্য উদঘাটনে সিসিটিভি ফুটেজ এবং কল রেকর্ড পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে পুলিশ সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করে। এরই ধারাবাহিকতায় শনিবার রাতে পুলিশ লাইনস থেকে জাকির হোসেন এবং নিজ বাড়ি থেকে মোহাম্মদ আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা গেছে, স্বর্ণ ছিনতাইয়ের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর জেলা পুলিশের সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইয়াসির আরাফাতকে এই ঘটনার অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয় এবং তাকে ১০ দিনের মধ্যে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যেই ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মামলা দায়ের করলে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়।

পুলিশি অভিযানে ছিনতাই হওয়া ৪০ ভরি স্বর্ণের মধ্যে সাড়ে ২০ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি স্বর্ণ উদ্ধারে পুলিশ এখনো তল্লাশি চালাচ্ছে। এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) এ এন এম ওয়াসিম ফিরোজ জানান, মামলা দায়েরের পর অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কনস্টেবল জাকির হোসেনকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। মোহাম্মদ আলীর কাছ থেকে সাড়ে ২০ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে এবং বাকি স্বর্ণ উদ্ধারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।