ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি পাওয়ারের গোড্ডা কেন্দ্রের ২ নম্বর ইউনিটটি কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ওই ইউনিটটি থেকে বাংলাদেশে আবারও বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়েছে। এর ফলে টানা প্রায় ৮৪ ঘণ্টা ধরে চলা তীব্র চাপের পর দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় কিছুটা স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টা ৪ মিনিটে ৮০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার এই ইউনিটটি বাংলাদেশের জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে পুনরায় যুক্ত হয়। পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ (পিজিসিবি)-এর জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. নাহিদ হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ইউনিটটি কিছুক্ষণ আগে গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে, তবে এর পূর্ণ উৎপাদন ক্ষমতা অর্জনে আরও কিছুটা সময় প্রয়োজন হবে।

অন্যদিকে, আদানি পাওয়ারের একটি অভ্যন্তরীণ সূত্র থেকে জানা গেছে, নির্ধারিত সময়ের আগেই আজ ভোর ৫টা ১৭ মিনিটে ইউনিটটি সফলভাবে চালু করা সম্ভব হয়েছে। কেন্দ্রটি পুরোপুরি সচল করার প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার সাথে সাথে এর বিদ্যুৎ উৎপাদন পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে কারিগরি ত্রুটির কারণে ইউনিটটি হঠাৎ বন্ধ হয়ে যায়। ওই রাতে দেশের বিদ্যুৎ ঘাটতি ৩ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে গিয়েছিল। পরদিন শুক্রবার চাহিদাও কম থাকায় পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, শনিবার মধ্যরাতে লোডশেডিং পুনরায় বৃদ্ধি পায় এবং ঘাটতি সর্বোচ্চ প্রায় ৩ হাজার ১০০ মেগাওয়াটে পৌঁছায়।

বর্তমানে বাংলাদেশে বিদ্যুতের মোট চাহিদা ১৬ থেকে ১৭ হাজার মেগাওয়াটের মধ্যে। তবে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) প্রায় ১৩ থেকে ১৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে ৮০০ মেগাওয়াটের গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটটি পুনরায় চালু হওয়ায় জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ অনেকটাই কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।