অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুলকে লক্ষ্য করে তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি স্পষ্টভাবে মন্তব্য করেছেন যে, আসিফ নজরুল ‘খুব ভালো মানুষ না’। একইসঙ্গে অধ্যাপক নজরুলের পোষা ছাগল চুরির ঘটনাটি উল্লেখ করে তিনি বিতর্কিত মন্তব্য করেন যে, যারা ছাগলটি খেয়েছে তাদের ‘একটি ছাগল খাওয়া উচিত হয়নি’, বরং সামনে সুযোগ পেলে আরও একটি খাওয়া উচিত ছিল।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে অবস্থিত বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি রংপুর অভিমুখে লংমার্চ আয়োজনের লক্ষ্যে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির এক জরুরি প্রস্তুতি সভায় অংশ নেন। সভা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েই তিনি সাবেক উপদেষ্টার বিরুদ্ধে এই আক্রমণাত্মক অবস্থান নেন এবং তার ব্যক্তিগত চরিত্রের সমালোচনা করেন।
উল্লেখ্য যে, গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে ‘ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন’ নামক একটি টকশোতে অংশ নিয়ে ড. আসিফ নজরুল তার ছোট মেয়ের পোষা ছাগলটি হারিয়ে যাওয়ার হৃদয়বিদারক ঘটনাটি তুলে ধরেন। ওই অনুষ্ঠানে তিনি অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে জানান, এই ঘটনার পর তার ছোট মেয়ের মানসিক অবস্থার ব্যাপক অবনতি হয়েছে। যারা ছাগলটি চুরি করেছে, তাদের প্রতি তীব্র ঘৃণা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘তাদের মতো ইতর-পাষণ্ড পশু আর কেউ নেই।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘ছাগলচুরির বিষয়টি আমি বিস্তারিত বলতে চাই না, তবে এটি আমার জীবনের অন্যতম হৃদয়বিদারক ঘটনা। কেউ যদি বলে এটি প্রতিশোধ হিসেবে করা হয়েছে, তবে তার মতো অমানুষ, পিশাচ এবং নির্মম ব্যক্তি আর হতে পারে না। পুরো ঘটনাটি তারা নিছক মজা করার জন্য করেছে।’
অধ্যাপক নজরুলের এই আবেগঘন বক্তব্যের প্রেক্ষিতে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী যখন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন, তখন তিনি সম্পূর্ণ ভিন্ন এক দাবি করেন। তিনি বলেন, ‘আসিফ নজরুলের ছাগল দুইটাই খাওয়া উচিত ছিল। তিনি মোটেও ভালো মানুষ নন। অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরের মেয়াদে তিনি গরু-ছাগল-মুরগির খামার শুরু করেছিলেন এবং যেখানেই সেই পশুপাল ছিল, সেখানে পুলিশের বিশেষ সিকিউরিটি মোতায়েন করেছিলেন।’
নিজের বক্তব্যের প্রেক্ষিতে তাকে যখন প্রশ্ন করা হয়, তখন তিনি দাবি করেন যে তাকে ভুলভাবে উপস্থাপন বা ‘ফ্রেমিং’ করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা মোটেও সত্য নয়। তিনি বলেন, ‘আমি দেখেছি কারা খেয়েছে এবং কী খেয়েছে। একটি ছাগল না খাওয়ানোর জন্য আমি তাদের ধিক্কার জানাচ্ছি এবং বলছি যেন আরেকটাও খায়। সামনে সুযোগ পেলে তারা অবশ্যই আরেকটাও খাবে।’
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের শেষ দিকে ড. আসিফ নজরুলের সরকারি বাসভবন থেকে পোষা ছাগল চুরির ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। ওই বছরের ডিসেম্বরের এক রাতে রাজধানীর হেয়ার রোডের সরকারি বাংলো থেকে তার ছোট মেয়ের প্রিয় পোষা ছাগলটি রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে যায়, যা নিয়ে পরবর্তীতে রাজনৈতিক মহলে নানা ধরনের বিতর্ক ও চর্চা সৃষ্টি হয়।


















