বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ হয়ে রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা এবং অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মাশরাফি বিন মর্তুজা, সাকিব আল হাসান ও অভিনেতা ফেরদৌস আহমেদসহ মোট ৯০ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অনুসন্ধানের আবেদন করা হয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদ্ক)। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সেগুনবাগিচায় অবস্থিত দুদকের প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে ‘রাষ্ট্র সংলাপ ফোরাম’-এর কয়েকজন সদস্য দুদকের চেয়ারম্যান বরাবর এই আনুষ্ঠানিক আবেদনটি জমা দেন। সংগঠনটির সভাপতি আলম আয়াসের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি এই অভিযোগপত্রটি প্রদান করেন।
আবেদনে সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ করা হয়েছে যে, তালিকায় অন্তর্ভুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে বিগত সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের মদদপুষ্ট গণমাধ্যমকর্মী, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব এবং বিশিষ্ট শিক্ষাবিদগণ রয়েছেন। রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের দাবি, গত ১৭ বছর ধরে সরকারের বিশেষ সুনজরে থেকে এসব ব্যক্তি অবৈধভাবে বিপুল বিত্ত-বৈভবের মালিক হয়েছেন। সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করেছেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় তাদের অর্জিত দুর্নীতির অর্থের একটি অংশ রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করার কাজে লিপ্ত ব্যক্তিদের কাছে সরবরাহ করা হচ্ছে।
আবেদনে উল্লিখিত ব্যক্তিদের সম্পদের প্রকৃত উৎস যাচাই, প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ এবং যথাযথ তদন্ত শেষে দুদক আইনের আওতায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জোরালো আহ্বান জানানো হয়েছে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুদকের সচিব আবেদনটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
আবেদনে বিনোদন, গণমাধ্যম ও ক্রীড়া অঙ্গনের বেশ কয়েকজন পরিচিত ও প্রভাবশালী ব্যক্তির নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। বিনোদন জগতের তালিকায় রয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য ও অভিনেতা ফেরদৌস আহমেদ, মেহের আফরোজ শাওন, রোকেয়া প্রাচী, জায়েদ খান ও তারানা হালিমসহ আরও অনেকে। গণমাধ্যম কর্মীদের মধ্যে রয়েছেন নাইমুল ইসলাম খান, সুভাষ সিংহ রায়, সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, নাসিমা খান মন্টি ও আশরাফুল আলম খোকন। অন্যদিকে, ক্রীড়া জগতের তালিকায় নাম রয়েছে মাশরাফি বিন মর্তুজা, সাকিব আল হাসান, নাইমুর রহমান দুর্জয়, কাজী নাবিল আহমেদ ও আরিফ খান জয়সহ আরও বেশ কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের।

















