বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম হোয়াটসঅ্যাপ অবশেষে তাদের বহুল প্রতীক্ষিত 'ইউজারনেম' ফিচার চালুর ঘোষণা দিয়েছে। এই নতুন সুবিধার ফলে ব্যবহারকারীরা এখন থেকে নিজেদের ব্যক্তিগত ফোন নম্বর প্রকাশ না করেই অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন, যা ব্যবহারকারীদের গোপনীয়তাকে আরও শক্তিশালী করবে। তবে মনে রাখতে হবে, অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য আগের মতোই ফোন নম্বর ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক থাকবে।
মেটা-র মালিকানাধীন এই অ্যাপটি বেশ কয়েক বছর ধরে ইউজারনেম ফিচারটি নিয়ে কাজ করছিল। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার থেকেই ব্যবহারকারীরা তাদের পছন্দের ইউজারনেম সংরক্ষণ বা রিজার্ভ করতে পারবেন। তবে এই ফিচারটি একযোগে সব দেশে চালু হবে না; বরং ধাপে ধাপে বিভিন্ন দেশে এটি কার্যকর করা হবে এবং চলতি বছরের শেষ নাগাদ আনুষ্ঠানিকভাবে সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
হোয়াটসঅ্যাপের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ব্যবহারকারীরা ৩ থেকে ৩৫ অক্ষরের মধ্যে যেকোনো ইউনিক ইউজারনেম নির্বাচন করতে পারবেন। তবে শর্ত থাকে যে, নির্বাচিত ইউজারনেমটি অবশ্যই প্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত নীতিমালা ও নির্দেশিকা মেনে চলতে হবে। পাশাপাশি, জনপ্রিয় তারকা, ভিআইপি ব্যক্তি এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানের জন্য কিছু বিশেষ ইউজারনেম আগে থেকেই সংরক্ষিত রাখা হবে।
বিশেষ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য এই ফিচারটি আরও সুবিধাজনক হবে। তারা চাইলে তাদের ফেসবুক বা ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টের একই ইউজারনেম হোয়াটসঅ্যাপেও ব্যবহার করতে পারবেন, যা তাদের ব্র্যান্ডিং প্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও সমন্বিত করবে।
যখন নির্দিষ্ট কোনো দেশে এই সুবিধা চালু হবে, তখন ব্যবহারকারীরা অ্যাপের মাধ্যমে একটি নোটিফিকেশন পাবেন। এরপর সেটিংস (Settings) > অ্যাকাউন্ট (Account) > ইউজারনেম (Username) অপশনে গিয়ে তারা নিজেদের পছন্দের নাম সেট করতে পারবেন। এর পাশাপাশি ব্যবহারকারীরা একটি 'ইউজারনেম কি' (Username Key) নির্ধারণ করার সুযোগ পাবেন। অর্থাৎ, যার কাছে এই গোপন কি-টি থাকবে, কেবল তিনিই ওই ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন।
মেটা জানিয়েছে, বর্তমানে হোয়াটসঅ্যাপের ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৩০০ কোটিরও বেশি। এত বিশাল সংখ্যক ব্যবহারকারীর মাঝে একই ইউজারনেম একাধিক ব্যক্তি ব্যবহার করতে পারেন না। তাই আগে থেকেই ইউজারনেম সংরক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে যাতে ব্যবহারকারীরা তাদের পছন্দের নামটির মালিকানা নিশ্চিত করতে পারেন।
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট করা হয়েছে যে, হোয়াটসঅ্যাপে ইউজারনেম সার্চ করে কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। অর্থাৎ, পাবলিক সার্চ অপশন থাকবে না। শুধুমাত্র যাদের কাছে নির্দিষ্ট ইউজারনেমটি আগে থেকে থাকবে, তারাই সেই ব্যক্তিকে বার্তা পাঠাতে পারবেন। ব্যবহারকারীরা চাইলে যেকোনো সময় এই ফিচারটি বন্ধ করতে পারবেন অথবা তাদের ইউজারনেম পরিবর্তন করতে পারবেন।
হোয়াটসঅ্যাপের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং প্রোডাক্ট প্রধান অ্যালিস নিউটন-রেক্স বলেন, "নতুন কারও সঙ্গে পরিচয়ের সময় নিজের ফোন নম্বর শেয়ার করা অনেকের জন্যই অস্বস্তিকর হতে পারে। কারণ ফোন নম্বর কেবল একটি যোগাযোগের মাধ্যম নয়, বরং এটি ব্যক্তিগত তথ্যের সাথে এবং জীবনের নানা গুরুত্বপূর্ণ সেবার সাথে যুক্ত। ইউজারনেম ফিচার ব্যবহারকারীদের সেই গোপনীয়তা রক্ষা করতে সাহায্য করবে এবং ফোন নম্বর কারা দেখতে পাবে, সে বিষয়ে আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ দেবে।"
তবে প্রাথমিক পর্যায়ে ইউজারনেমটি অন্যদের জানাতে হবে লিখিত বার্তা বা মুখে বলার মাধ্যমে। কিউআর (QR) কোড স্ক্যান করে সরাসরি ইউজারনেমের মাধ্যমে যোগাযোগের সুবিধাটি এখনই যুক্ত করা হয়নি। উল্লেখ্য যে, হোয়াটসঅ্যাপের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী মেসেজিং প্ল্যাটফর্ম টেলিগ্রাম, সিগন্যাল এবং ওয়্যারের মতো অ্যাপগুলোতে বহু বছর ধরেই ইউজারনেমের মাধ্যমে ফোন নম্বর গোপন রেখে যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপের এই নতুন পদক্ষেপটি তাদের প্রতিযোগিতার বাজারে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।











