মহাকাশের অসীম শূন্যতায় আমরা কি সত্যিই একা, নাকি অন্য কোনো প্রান্তে প্রাণের অস্তিত্ব লুকিয়ে আছে? বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক এক আবিষ্কার এই চিরন্তন প্রশ্নের উত্তর খোঁজার পথে নতুন আশার আলো দেখিয়েছে। পৃথিবীর খুব কাছেই একটি নতুন গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন গবেষকরা, যাকে সহজ ভাষায় পৃথিবীর ‘প্রতিবেশী’ গ্রহ বলা হচ্ছে। সম্প্রতি প্রভাবশালী বৈজ্ঞানিক সাময়িকী ‘দ্য অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল’-এ এই চমকপ্রদ গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে।

নতুন এই গ্রহটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘জিজে ৩৩৭৮বি’। এটি আকারে আমাদের পৃথিবীর চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ বড়, আর এই কারণেই জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের কাছে এটি একটি ‘সুপার-আর্থ’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব মাত্র ২৫ আলোকবর্ষ, যা মহাজাগতিক হিসেবে অত্যন্ত কাছাকাছি। গ্রহটি তার নিজস্ব নক্ষত্রকে কেন্দ্র করে এমন এক কক্ষপথে ঘুরছে, যাকে বিজ্ঞানীরা ‘গোল্ডিলকস জোন’ বা বাসযোগ্য অঞ্চল বলে অভিহিত করেন। এই অঞ্চলের বিশেষত্ব হলো এর তাপমাত্রা—যা তরল পানির অস্তিত্ব থাকার জন্য একদম অনুকূল।

গবেষক পল রবার্টসন জানান, গ্রহটি তার নক্ষত্র থেকে প্রায় পৃথিবীর মতোই আলো ও তাপ লাভ করে। তবে প্রাণের অস্তিত্ব নিশ্চিত হওয়ার পথে একটি বড় প্রশ্নচিহ্ন এখনো রয়ে গেছে—গ্রহটিতে কি কোনো বায়ুমণ্ডল আছে? পানি ধরে রাখা এবং মহাশূন্যের মারাত্মক ক্ষতিকর রশ্মি থেকে সুরক্ষা পাওয়ার জন্য একটি স্থিতিশীল বায়ুমণ্ডলের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। উদাহরণ হিসেবে মঙ্গল গ্রহের কথা বলা যায়, যা তার বায়ুমণ্ডল হারিয়ে বর্তমানে শুষ্ক ও শীতল মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। তাই জিজে ৩৩৭৮বি-তে সত্যিই বায়ুমণ্ডল, পানি কিংবা প্রাণের কোনো চিহ্ন আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে এখন আরও উন্নত ও শক্তিশালী টেলিস্কোপের সাহায্য নিতে হবে বিজ্ঞানীদের। তবুও পৃথিবীর এত কাছাকাছি এমন একটি বাসযোগ্য গ্রহের সন্ধান পাওয়া বিজ্ঞানীদের কাছে এক বিশাল সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।