মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার একজন মহাকাশচারীর ক্যামেরায় ধরা পড়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলের এক মনোমুগ্ধকর রাতের দৃশ্য। মহাকাশের অন্তরীক্ষ থেকে তোলা এই ছবিতে অন্ধকারের বুক চিরে আলোকিত শহরের রূপ, হান নদীর বয়ে চলা এবং চারপাশের পাহাড়ি উপত্যকার এক অনন্য বিন্যাস স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

নাসার মহাকাশচারী ডন পেটিট তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে পৃথিবীর কক্ষপথ থেকে ধারণ করা এই অসাধারণ ছবিটি প্রকাশ করেছেন। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, রাতের নিশ্ছিদ্র অন্ধকারের মাঝে সিউলের আলোকসজ্জা যেন এক উজ্জ্বল মানচিত্রের মতো ছড়িয়ে আছে। ছবির সাথে দেওয়া এক বার্তায় ডন পেটিট ব্যাখ্যা করেছেন যে, সিউলের ভৌগোলিক গঠন মূলত হান নদী এবং সংলগ্ন পাহাড়ি উপত্যকা দ্বারা নির্ধারিত। এই হান নদী শহরটিকে দুটি প্রধান ভাগে বিভক্ত করেছে, আর পাহাড়ি উপত্যকার স্বাভাবিক পথ অনুসরণ করেই শহরের আলো চারদিকে বিস্তৃত হয়েছে।

মহাকাশ থেকে তোলা এই বিশেষ চিত্রে সিউলের উজ্জ্বল আলোকরেখা এবং হান নদীর গতিপথের এক চমৎকার সমন্বয় দেখা যায়, যা পুরো শহরের সামগ্রিক বিন্যাসকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছে। ছবিটি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়ার পর মুহূর্তেই তা নেটিজেনদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। অনেকেই একে এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ এই নগরীর এক বিরল ও নান্দনিক দৃশ্য বলে অভিহিত করেছেন।

একজন ব্যবহারকারী তার প্রতিক্রিয়ায় লিখেছেন, "এটি সত্যিই একটি অসাধারণ ছবি। মহাকাশ থেকে সিউলকে এত সুন্দরভাবে দেখা যাবে, তা আমি কল্পনাও করিনি।" অন্য একজন মন্তব্য করেছেন, "উপর থেকে দেখলে হান নদীকে যেন শহরের বুক চিরে বয়ে যাওয়া একটি আলোকিত শিরার মতো মনে হচ্ছে।"

বিশেষজ্ঞদের মতে, মহাকাশ থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন শহরের এমন ছবি কেবল নান্দনিক সৌন্দর্যই প্রকাশ করে না, বরং এটি নগর পরিকল্পনা, ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য এবং রাতের আলোকসজ্জার ধরন সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ ধারণা প্রদান করে। সিউলের এই ছবিটিও তার এক অনন্য উদাহরণ।