সুনামগঞ্জে বন্যার পূর্বাভাস এবং পৌর শহরের সম্ভাব্য জলাবদ্ধতা নিরসনে সতর্কতামূলক বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলা এবং শহরের বাসিন্দাদের সম্ভাব্য ভোগান্তি কমাতে সুনামগঞ্জ পৌরসভার সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। গত শুক্রবার দুপুরে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড আনুষ্ঠানিকভাবে বন্যার সতর্কতা জারি করার পর স্থানীয় জনমনে তীব্র উৎকণ্ঠা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে আজ শনিবার (১১ জুলাই) পৌরসভার প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ছুটি বাতিল করা হয়।
গত ২৪ ঘণ্টায় স্থানীয়ভাবে বৃষ্টিপাত কিছুটা হ্রাস পাওয়ায় সুনামগঞ্জের নদ-নদীর পানি সাময়িকভাবে কিছুটা কমেছে। তবে ভারতের মেঘালয়ে প্রবল বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকার কারণে সীমান্ত নদগুলোতে পানির স্রোত আগের চেয়ে বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয়ভাবে বৃষ্টি কম হলেও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের প্রভাবে নদী ও হাওরের পানি দ্রুত বাড়ছে, যা সংশ্লিষ্ট এলাকার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সুনামগঞ্জ পৌরসভার প্রশাসক অসীম চন্দ্র বণিক এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে বলেন, সুনামগঞ্জে বন্যার একটি জোরালো পূর্বাভাস ছিল। যদিও এখন পর্যন্ত পৌর শহরের অভ্যন্তরে সরাসরি কোনো বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি, তবুও শহরের মানুষকে জলাবদ্ধতার চরম ভোগান্তি থেকে রক্ষা করতে এবং যেকোনো আকস্মিক পরিস্থিতি অত্যন্ত দক্ষতার সাথে মোকাবিলা করার লক্ষ্যে এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি, পৌরবাসীর জরুরি সেবা নিশ্চিত করতে এবং দ্রুত যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে একটি বিশেষ কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। শহরের কোনো স্থানে পানি জমে গেলে বা জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলে তা সাথে সাথে পৌরসভাকে জানানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। তথ্য পাওয়া মাত্রই সেখানে তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জের সুরমা নদীর পানি ষোলঘর পয়েন্ট দিয়ে সাত দশমিক ২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উল্লেখ্য যে, সুরমা নদীর বিপদসীমা নির্ধারিত সাত দশমিক ৮০ সেন্টিমারে। স্থানীয়ভাবে বৃষ্টিপাত কমলেও ঢলের পানির তীব্র স্রোত এবং হাওরের পানি বৃদ্ধির বিষয়টি মাথায় রেখে পৌর কর্তৃপক্ষ সার্বিক পরিস্থিতি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।











