রেকর্ডভাঙা তীব্র দাবদাহ এবং দীর্ঘদিনের শুষ্ক আবহাওয়ার প্রভাবে বর্তমানে ভয়াবহ দাবানলের কবলে পড়েছে দক্ষিণ ফ্রান্স। দেশটির একাধিক অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া এই বিধ্বংসী আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে রীতিমতো যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কাজ করছেন শত শত দমকলকর্মী। ডয়চে ভেলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশটির ওদ এবং এরো অঞ্চলে পরিস্থিতির ভয়াবহতা সবচেয়ে বেশি। সেখানে প্রায় ৯০০ হেক্টরেরও বেশি (প্রায় ২ হাজার ২০০ একর) এলাকা জুড়ে আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইতোমধ্যে ৮০০ জন দক্ষ দমকলকর্মী এবং ১৫০টি বিশেষ উদ্ধারকারী যান মোতায়েন করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) পিরেনিপোরিয়াঁতাল অঞ্চলের সাঁত-মারি-লা-মের এলাকায় দাবানল ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রায় তিন হাজার পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই আগুন পরবর্তীতে স্পেনের সীমান্ত সংলগ্ন কানেত-অ-রুসিয় শহরে ছড়িয়ে পড়ে। টেলিভিশন ফুটেজে দেখা গেছে, কানেত-অঁ-রুসিয়ঁ শহরের বেশ কিছু গুদামঘর এবং সমুদ্র উপকূলে থাকা একটি বিলাসবহুল ইয়ট আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনের তীব্রতায় সৃষ্ট ঘন কালো ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী পুরো সৈকত এলাকাকে অন্ধকার করে ফেলেছে, যা দেখে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

পিরেনিপোরিয়াঁতাল অঞ্চলের শীর্ষ কর্মকর্তা পিয়েরে রেনো দে লা মথ জানিয়েছেন, আগুন নেভানোর কঠিন অভিযানে গিয়ে দুইজন দমকলকর্মী সামান্য আহত হয়েছেন। তবে আশার কথা হলো, বৃহস্পতিবার সকালের দিকে ফ্রান্সের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মার্সেইয়ের উপকণ্ঠে লাগা দুটি পৃথক অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছেন দমকলকর্মীরা। মার্সেই শহরে একটি জরুরি সংকটকালীন বৈঠক শেষে ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু সাংবাদিকদের বলেন, “চলতি গ্রীষ্ম মৌসুমের শুরু থেকে এ পর্যন্ত দেশটিতে প্রায় ৭ হাজারটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে ইতোমধ্যে ৮ হাজার ৭০০ হেক্টরের বেশি ভূমি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।” বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত উদ্বেগজনক’ আখ্যা দিয়ে তিনি আরও বলেন, এবারের দাবানলের তীব্রতা এবং স্বাভাবিক সময়ের আগেই এর প্রাদুর্ভাবের কারণে কর্তৃপক্ষ ও দমকলকর্মীদের চরম ধৈর্যের পরীক্ষা দিতে হচ্ছে।

দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরেন্ট নুনেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জানিয়েছেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সামরিক বাহিনীর সদস্য এবং স্বেচ্ছাসেবকসহ প্রায় দুই হাজার দমকলকর্মী দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তাদের কাজ অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে। উল্লেখ্য, গত জুন মাসে ফ্রান্সে টানা ১১ দিনব্যাপী একটি রেকর্ডভাঙা দাবদাহ দেখা গিয়েছিল, যেখানে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে গিয়েছিল। আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্যমতে, আগামী দিনগুলোতে বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই। ফলে উচ্চ তাপমাত্রা, শুষ্ক গাছপালা এবং ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল থেকে বয়ে আসা প্রবল বাতাসের কারণে এই দাবানল আরও ভয়াবহ ও অনিয়ন্ত্রিত রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।