ইন্দোনেশিয়ার বোর্নিও দ্বীপে ছড়িয়ে পড়া ভয়াবহ দাবানল ও বিষাক্ত ধোঁয়ার কবলে পড়েছেন লাখ লাখ মানুষ। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ কেবল স্থানীয় বাসিন্দাদেরই নয়, বরং পার্শ্ববর্তী মালয়েশিয়ায় বসবাসকারী সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকেও চরম দুর্ভোগের মুখে ঠেলে দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্মরণকালের অন্যতম শক্তিশালী এল নিনো আবহাওয়ার প্রপ্রভে সৃষ্ট দীর্ঘস্থায়ী খরা এই ভয়াবহ পরিস্থিতির মূলে রয়েছে। এর ফলে বিশুদ্ধ পানি, নির্মল বাতাস এবং শিশুদের শিক্ষার মতো অতি প্রয়োজনীয় মৌলিক অধিকারগুলো এখন মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি এই তথ্য প্রকাশ করেছে।
প্রাদেশিক রাজধানী পন্তিয়ানাকের একটি জুনিয়র হাইস্কুলের শিক্ষক শারীফাহ হাতিফাহ (৫৭) জানান, বায়ুদূষণের মাত্রা এতটাই বেড়েছে যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে। এর ফলে প্রায় ৬০০ শিক্ষার্থীর পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তিনি দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, "আমার তিন দশকের শিক্ষকতা জীবনে এত দীর্ঘ সময় ধরে স্কুল বন্ধ থাকার ঘটনা আমি আগে কখনো দেখিনি।" বায়ুদূষণের মাত্রা বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছানোর ফলে রাজ্যের শত শত স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং বর্তমানে প্রায় দুই লাখ শিক্ষার্থী ঘরে বসে অনলাইনে ক্লাস করছে।
অঞ্চলের স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান কুবু রায়া ইওয়ানসিয়াহ জানান, বিষাক্ত বাতাস গ্রহণের ফলে সেপ্টেম্বর মাসের শুরুতেই তীব্র শ্বাসকষ্টজনিত সংক্রমণে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন এক হাজার চারশোরও বেশি মানুষ। উল্লেখ্য, গত আগস্ট মাসে এই আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ছয় হাজার তিনশো ছিয়ানব্বই। পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রতিদিন প্রায় এক হাজার মাস্ক বিতরণ করা হলেও দ্রুত তা ফুরিয়ে আসছে। একই সঙ্গে খরার কারণে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে, যার ফলে এখন পর্যন্ত দুইশো পঁচিশ জন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন।
পন্তিয়ানাকের বাইরের লিনতাং বাতাং গ্রামের উপ-প্রধান ইয়োনাস জানান, চার দিন ধরে জ্বলতে থাকা পিটল্যান্ডের আগুন নেভাতে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের চাঁদার টাকায় একটি ওয়াটার পাম্প ও পাইপ কিনেছেন। তবে প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সরঞ্জাম, মাস্ক, খাবার ও পানির পাইপের তীব্র স্বল্পতার কারণে স্বেচ্ছাসেবকরা এখন বালতি দিয়েই আগুন নেভানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)-এর নিরাপদ সীমার চেয়ে বহুগুণ বেশি বিষাক্ত এই ধোঁয়া বিশেষ করে শিশু, গর্ভবতী নারী, বয়স্ক এবং হাঁপানির রোগীদের জীবনকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।




















