ইতালির রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করলেন প্রধানমন্ত্রী জর্জা মেলোনি। তার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার দেশটির প্রজাতান্ত্রিক ইতিহাসের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী সরকার হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়েছে। ২০২২ সালের ২২ অক্টোবর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে ২০২৬ সালের ৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই সরকার টানা ১,৪১৩ দিন ক্ষমতায় থাকার গৌরব অর্জন করেছে। এর মাধ্যমে তারা সাবেক প্রধানমন্ত্রী সিলভিও বেরলুসকোনির দ্বিতীয় সরকারের ১,৪১২ দিনের দীর্ঘতম শাসনকালের রেকর্ডটি অতিক্রম করেছেন।

এই নজিরবিহীন অর্জনকে কেবল একটি রাজনৈতিক পরিসংখ্যান হিসেবে দেখছেন না প্রধানমন্ত্রী মেলোনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিস্তারিত বার্তায় তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, সরকারের এই স্থায়িত্ব কোনো প্রদর্শনী বা দম্ভের বিষয় নয়। বরং তিনি মনে করেন, একটি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন, সাহসী সিদ্ধান্ত গ্রহণ, দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অপরিহার্য।

গত প্রায় চার বছরের শাসনকাল পর্যালোচনা করে মেলোনি দাবি করেছেন, তার সরকার দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাঠামোর উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি, বেকারত্বের হার হ্রাস, সাধারণ পরিবার ও ক্ষুদ্র-বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার এবং সরকারি অর্থব্যবস্থাকে সুশৃঙ্খল রাখার ক্ষেত্রে তারা সফল হয়েছে। একই সাথে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ইতালির অবস্থান শক্তিশালী করা এবং বিশ্বদরবারে দেশটির বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনার বিষয়েও মেলোনির সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। তবে সাফল্যের পাশাপাশি তিনি বিনয়ের সাথে স্বীকার করেছেন যে, দেশের সামনে এখনও অনেক চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে এবং প্রচুর কাজ বাকি।

এই ঐতিহাসিক সাফল্যের কৃতিত্ব মেলোনি এককভাবে গ্রহণ করেননি। তার মতে, এই স্থায়িত্বের মূল চাবিকাঠি হলো ক্ষমতাসীন মধ্য-ডানপন্থী জোটের অটুট ঐক্য। তিনি উল্লেখ করেন, জোটের দলগুলো কেবল একে অপরের বিরোধিতা করার জন্য নয়, বরং ইতালির সমৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি অভিন্ন রাজনৈতিক প্রকল্প বাস্তবায়নের অঙ্গীকার নিয়ে একসঙ্গে কাজ করছে। লক্ষণীয় যে, ইতালির প্রজাতান্ত্রিক ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী তিনটি সরকারের তালিকায় এখন মধ্য-ডানপন্থী জোটের আধিপত্য দেখা যাচ্ছে, যেখানে মেলোনির পর দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বেরলুসকোনির সরকার।

প্রধানমন্ত্রী মেলোনি মনে করেন, ২০২২ সালে ইতালির সাধারণ জনগণ তার সরকারের ওপর যে অগাধ আস্থা দেখিয়েছিলেন, সেটিই এই স্থায়িত্বের মূল ভিত্তি। জনগণের সেই আস্থাকে তিনি কেবল আনুষ্ঠানিক শব্দ হিসেবে দেখেননি, বরং একে একটি পবিত্র দায়িত্ব হিসেবে গণ্য করেছেন। আগামী বছর তিনি পুনরায় জনগণের মুখোমুখি হয়ে সরকারের অর্জন, অসম্পূর্ণ কাজ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাগুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছেন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তটি জনগণের হাতেই থাকবে যে, তারা এই সরকারকে পুনরায় দায়িত্ব দিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেবেন কি না। এদিকে, ২০২৭ সালে ইতালিতে পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যার জন্য ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি শুরু করেছে দেশটির সব প্রধান রাজনৈতিক দল।