স্যামসাং বাজারে এনেছে তাদের অত্যাধুনিক গ্যালাক্সি জেড ট্রাই-ফোল্ড স্মার্টফোন, যা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর কল্পনাকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে। এই যুগান্তকারী ডিভাইসে রয়েছে বিশেষ ডুয়াল-ফোল্ডিং স্ক্রিন, যা ভাঁজ করা অবস্থায় পকেটে সহজে রাখা গেলেও সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করলে তা ১০ ইঞ্চির এক বিশাল ডিসপ্লেতে পরিণত হয়। স্মার্টফোনের পোর্টেবিলিটি এবং ট্যাবলেটের সুবিধার এক অনন্য সংমিশ্রণ এই ডিভাইসটি ব্যবহারকারীকে প্রদান করবে এক ভবিষ্যৎমুখী মোবাইল অভিজ্ঞতা।

ডিজাইনের দিক থেকে এটি অত্যন্ত চমকপ্রদ এবং উদ্ভাবনী। প্যামফলেটের মতো দুবার ভাঁজ করা যায় এমন এই ফোনটি যখন খোলা হয়, তখন এটি পিসির মতো অভিজ্ঞতা প্রদান করে, যেখানে আকার পরিবর্তনযোগ্য উইন্ডো এবং উন্নত মাল্টিটাস্কিং সুবিধা বিদ্যমান। বিশেষ দুটি ভিন্ন আকারের কব্জার ব্যবহারের ফলে ফোনটি অত্যন্ত মসৃণ ও স্থিতিশীলভাবে ভাঁজ হয় এবং খোলা অবস্থায় এর পাতলা প্রোফাইল মাত্র ৩.৯ মিলিমিটার।

পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রে কোনো আপস করেনি স্যামসাং। এতে ব্যবহার করা হয়েছে সর্বাধুনিক ও শক্তিশালী স্ন্যাপড্রাগন ৮ এলিট চিপসেট। ফটোগ্রাফির জন্য এতে রয়েছে ২০০ মেগাপিক্সেলের শক্তিশালী প্রধান ক্যামেরা এবং দীর্ঘক্ষণ নিরবচ্ছিন্ন ব্যবহারের নিশ্চয়তায় যুক্ত করা হয়েছে ৫৬০০ এমএএইচ এর একটি বড় ব্যাটারি।

কাজের গতি বাড়াতে এবং সৃজনশীলতার বিকাশে এই ফোনটিকে বিশেষভাবে ডিজাইন করা হয়েছে। এতে স্প্লিট-স্ক্রিন অ্যাপ সমর্থন এবং কীবোর্ড ও মাউসের সাথে পেয়ারিং করার সুবিধা রয়েছে, যা একে একটি মিনি-ল্যাপটপের কার্যকারিতা প্রদান করে। এছাড়া গুগল জেমিনি-র (Gemini) সাথে সমন্বিত উন্নত এআই প্রযুক্তি মাল্টি-অ্যাপ ব্যবস্থাপনাকে করেছে আরও সহজ ও কার্যকর, যা স্যামসাংয়ের "এআই লিভিং" দৃষ্টিভঙ্গিকে পূর্ণতা দেয়। সামগ্রিকভাবে, কাজ এবং বিনোদনের জন্য এই স্মার্টফোনটি এখন একটি সত্যিকারের ল্যাপটপের বিকল্প হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।