তীব্র উত্তেজনার মধ্য দিয়ে মেজাজ হারালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের দলেরই এক কর্মীকে সপাটে চড় মারলেন তিনি। ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার (৮ জুলাই), যখন রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল।

ঘটনার সূত্রপাত গত রবিবার (৫ জুলাই), যখন পশ্চিমবঙ্গের বারুইপুরে একটি শিশু ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সামনে আসে। ওই দিনই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু অভিযোগ, রাজ্যের বিজেপি সরকার তাকে সেখানে যেতে বাধা দেয় এবং কার্যত নজরবন্দি করে রাখে। পুলিশ তার কালীঘাটের বাসভবন ঘিরে ফেলে, যার ফলে তিনি বাইরে বেরোতে পারেননি।

এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানাতে এবং হাইকোর্টের অনুমতি নিয়ে বুধবার পথে নেমেছিলেন কালীঘাটের তৃণমূল ছাত্র-যুবারা। মিছিলটি বালিগঞ্জ ফাঁড়ি থেকে শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই হাজরা চত্বরে এসে পৌঁছায়। ঠিক সেই সময়েই সেখানে বিজেপির একটি মিছিলের মুখোমুখি হয় তৃণমূলের কর্মীরা। মুহূর্তের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, সেখানে ‘চোর চোর’ ধ্বনি এবং ‘মাছ চোর’ গান গাইতে শুরু করে বিজেপি সমর্থকরা, যার ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। দুই পক্ষের মধ্যে শুরু হয় তীব্র হাতাহাতি ও সংঘর্ষ। তৃণমূলের দাবি, বিজেপির এই পরিকল্পিত বাধা আদালতের নির্দেশ অমান্য করার শামিল এবং এটি স্পষ্ট আদালত অবমাননা।

ঘৃণ্য সংঘর্ষ ও চরম বিশৃঙ্খলার মাঝে অনেক কর্মী অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে আহত ও অসুস্থ কর্মীরা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেখা করতে হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে তাদের বাসভবনের সামনে জড়ো হন। ভিড় ক্রমশ বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি সামলাতে শেষ পর্যন্ত বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দুই হাত নেড়ে ভিড় সরিয়ে সবাইকে দূরে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিচ্ছিলেন।

কিন্তু চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে অনেকেই তার কথা শুনতে রাজি হননি। বিশেষ করে ফোনের ক্যামেরা হাতে নিয়ে অনেকেই খুব কাছ থেকে দৃশ্যটি ধারণ করতে চেয়েছিলেন। ভিড়ের প্রচণ্ড চাপে সেখানে আরও বেশ কিছু কর্মী অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের দ্রুত গাড়িতে তুলে হাসপাতালে পাঠানোর সময় বিশৃঙ্খলা চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। ঠিক সেই মুহূর্তেই মেজাজ হারান মমতা। প্রথমে মাইক হাতে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করলেও, পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ হন। সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী, কমলা রঙের টি-শার্ট পরা এক ব্যক্তির গালে সপাটে চড় মারেন তিনি। জানা গেছে, ওই ব্যক্তিও তৃণমূল কংগ্রেসেরই একজন কর্মী। এরপর আরও কয়েক জন কর্মীর পিঠেও থাপ্পড় মারতে দেখা যায় তাকে। তবে ঠিক কোন কারণে তিনি এমন আক্রমণাত্মক আচরণ করলেন, তা নিয়ে এখনও কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।