শরীয়তপুরের কীর্তিনাশা নদীতে এক রহস্যময় প্রাণীর লাফালাফি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ১৯ সেকেন্ডের একটি ছোট ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, নদীর পানির এক পাশ থেকে অন্য পাশে ডলফিনের মতো দেখতে একটি প্রাণী বারবার লাফিয়ে বেড়াচ্ছে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর মুহূর্তেই সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রবল কৌতূহল তৈরি হয়েছে। তবে ভিডিওটি কি সত্যিই বাস্তব, নাকি প্রযুক্তির কারসাজি—তা নিয়ে এখন শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।

ঘটনার সূত্রপাত হয় রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে। শরীয়তপুর সদর উপজেলার মুন্সিরহাট খেয়াঘাট সংলগ্ন কীর্তিনাশা নদীতে প্রাণীটির এই অদ্ভুত আচরণের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়। ১৯ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটিতে দেখা যায়, একটি ডলফিন সদৃশ প্রাণী পানির তলদেশ থেকে লাফিয়ে উঠছে এবং এক পাশ থেকে অন্য পাশে দ্রুত গতিতে চলে যাচ্ছে। পুরো ভিডিওতে প্রাণীটিকে অন্তত চারবার এভাবে লাফাতে দেখা গেছে, যা দর্শকদের অবাক করেছে।

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কীর্তিনাশা নদীতে এ ধরনের প্রাণীর এভাবে লাফিয়ে ওঠার ঘটনা তারা আগে কখনও দেখেননি এবং এর আগে এমন কোনো ঘটনার কথা শোনেননি। মুন্সিরহাট খেয়াঘাটে যাতায়াতের সঙ্গে যুক্ত কয়েকজন অভিজ্ঞ মাঝির মতে, এই নদীতে শুশুক পাওয়া যায় এবং মাঝেমধ্যে তাদের দেখা মেলে। তবে ভিডিওতে প্রদর্শিত প্রাণীটি যেভাবে লাফিয়ে বেড়াচ্ছে, তা তাদের কাছে একেবারেই অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। তারা স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, তারা কখনও প্রকৃত ডলফিনকে এভাবে লাফাতে দেখেননি।

স্থানীয়দের অনেকেরই ধারণা, ভিডিওটি বর্তমান সময়ের বহুল আলোচিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (Artificial Intelligence) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে অথবা অত্যন্ত নিপুণভাবে সম্পাদনা করা হয়েছে। সঠিক যাচাই-বাছাই ছাড়াই ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ও কৌতূহল আরও বহুগুণ বেড়ে গেছে।

এই রহস্যময় ভিডিওর বিষয়ে শরীয়তপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ দাস তার মতামত জানিয়েছেন। তিনি জানান, সম্প্রতি নদীর পানির উচ্চতা ৩ থেকে ৫ ফুট পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। পানির উচ্চতা বাড়লে বড় নদী থেকে ডলফিন বা অন্যান্য জলজপ্রাণীর ছোট নদীতে চলে আসার একটি সম্ভাবনা থাকে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নির্দিষ্ট এই ভিডিওটি বিশ্লেষণ করে তারও মনে হয়েছে যে এটি এআই দিয়ে তৈরি হতে পারে।

তিনি আরও বিস্তারিতভাবে বলেন, "নদীতে ডলফিন আসার সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তবে ভিডিওতে প্রাণীটিকে যেভাবে এক পাশ থেকে অন্য পাশে বারবার লাফাতে দেখা যাচ্ছে, সেটি কোনো স্বাভাবিক আচরণ বলে মনে হচ্ছে না। বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে একটি ডলফিন কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে এভাবে বারবার লাফিয়ে এক পাশ থেকে অন্য পাশে যেতে পারে না। তাই আমার মনে হয়, ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর মাধ্যমে তৈরি করার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি।"

ভিডিওটি কে ধারণ করেছেন অথবা এর আসল উৎস কী, তা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যায়নি। উদ্ভূত এই পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ধরনের চাঞ্চল্যকর দৃশ্য দেখলেই তা বিশ্বাস করা ঠিক নয়। যেকোনো তথ্য বা ভিডিও শেয়ার করার আগে অবশ্যই তার সত্যতা যাচাই করে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।