চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ঠাকুরগাঁওয়ের ৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে একজন শিক্ষার্থীও পাস করতে পারেনি। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৩৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিলেও সবাই অকৃতকার্য হয়েছে। এমন ফলাফলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে গভীর হতাশা তৈরি হয়েছে এবং জেলার শিক্ষার মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

শনিবার সরেজমিনে পাওয়া তথ্যে দেখা যায়, শূন্য পাসের তালিকায় রয়েছে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার সালন্দর মহিলা কলেজের ৭ জন এবং কদমরসুল হাট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৯ জন পরীক্ষার্থী। এ ছাড়া বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার হরিণমারী স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১২ জন, মোড়লহাট জনতা স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১ জন ও বগুলাবাড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজের ১ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে কেউ পাস করতে পারেনি। অন্যদিকে পীরগঞ্জ উপজেলার একটিয়াপুর শহীদ সালাউদ্দিন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২ জন, রাণীশংকৈল উপজেলার ধুলঝাড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২ জন, গোগর কলেজের ২ জন এবং রাউতনগর স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২ জন পরীক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। সব মিলিয়ে জেলার ৯টি প্রতিষ্ঠানের ৩৮ জন পরীক্ষার্থীর সবাই ফেল করেছে।

জেলা শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এবার জেলায় মোট ৯ হাজার ৮৫৭ জন পরীক্ষায় অংশ নেয়। তাদের মধ্যে পাস করেছে ৪ হাজার ৪৩৯ জন। পাসের হার ৪৫ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৭৮ জন। ফল বিপর্যয়ের কারণ সম্পর্কে সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজনের ঠাকুরগাঁওয়ের সাধারণ সম্পাদক শাহ মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, করোনাকালীন সময়ে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে এক ধরনের অলসতা তৈরি হয়েছিল, যা এখনো রয়ে গেছে। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোনে আসক্তিও বেড়েছে। শতভাগ পাস নিশ্চিত করতে হলে আগে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের শতভাগ উপস্থিতি ও নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিন আখতার বলেন, প্রতিষ্ঠানগুলো এমপিওভুক্ত নয়, কাগজে-কলমে টিকে রয়েছে। তবে ফল বিপর্যয়ের বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে লিখিত প্রতিবেদন পাঠানো হবে। কী কারণে ফলাফলে বিপর্যয় ঘটেছে তা পর্যালোচনা করা হবে। ভবিষ্যতে যাতে এমন পরিস্থিতি না হয় সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।