বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কেএম তাহসিফ সাউরির রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় এখনই মামলা করার কথা ভাবছে না তার পরিবার। মামলা করলে আদালতে দৌড়াদৌড়িসহ নানা ধরনের ঝামেলায় পড়তে হতে পারে বলে মনে করছেন তাহসিফের বাবা একেএম এনায়েতুল করিম।

তবে ছেলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো আন্তরিকভাবে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে মামলার বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। মামলা করার বিষয়ে জানতে চাইলে তাহসিফের বাবা বলেন, মামলার ব্যাপারে আমরা এখনো ভাবিনি। আমরা পারিবারিকভাবে আলোচনা করব, পরে সিদ্ধান্ত নেব। তবে মামলার কেন প্রয়োজন হবে? সরকার নিশ্চয়ই এ ব্যাপারে দায়িত্ববোধের পরিচয় দেবে এবং অত্যন্ত আন্তরিক হবে বলে আমি বিশ্বাস করি। মামলা না করার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, মামলা মানেই তো আমাদের দেশে একটা ঝামেলা। কোর্টে দৌড়াদৌড়ি, কে চায় এই ঝামেলার মধ্যে পড়তে? যেখানে আমাদের চমৎকার সরকার রয়েছে। সরকারের বিভিন্ন সংস্থাকে আমি ইতোমধ্যে লক্ষ্য করেছি, তারা অত্যন্ত দায়িত্ববান এবং অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। এদিকে তাহসিফের মৃত্যুর ঘটনায় তার বন্ধুস্থানীয় ছোটভাই আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের দেওয়া তথ্যে অসংগতি পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনার রাতের বিষয়ে দীপ নানা ধরনের এলোমেলো তথ্য দিচ্ছেন। তবে তার সব বক্তব্য বিশ্বাসযোগ্য মনে করছেন না তদন্তকারীরা। ফলে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনে প্রতিটি তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পিবিআই ঢাকা মেট্রোর উত্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, ছায়াতদন্তের এক পর্যায়ে আমরা জানতে পেরেছি, সাউরি যেদিন রাতে নিখোঁজ হন, সেদিন তার সঙ্গে একজন বন্ধু ছিলেন। তার নাম দীপ। তিনি আমাদের সঙ্গেই আছেন। দীপ নানা তথ্য দিয়েছেন। আসলে সেই তথ্যগুলোর সব আমরা বিশ্বাসও করি না। প্রতিটি বিষয় আমরা যাচাই করে দেখছি। তাহসিফের সঙ্গে দীপের পরিচয় ও সম্পর্কের বিষয়ে তার বাবা বলেন, যেহেতু সে অন্য চাকরি করত, এজন্য তার ছোট ব্যবসাটা দীপ দেখাশোনা করত পড়াশোনার পাশাপাশি। এভাবেই তার সঙ্গে একটা সম্পর্ক ছিল বলে আমার জানা। বিভিন্ন কোম্পানিতে সিকিউরিটি গার্ড সরবরাহ করা হতো। অনেক দিন ধরে তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিল। মাঝেমধ্যে আমাদের বাসায় আসত, খাওয়া-দাওয়া করত। তিনি আরও বলেন, এমনকি তার বাবা-মা ও ছোট ভাইও একবার আমাদের বাসায় এসেছিলেন, দুপুরের খাবার খেয়ে গেছেন। তদন্তে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে বলে প্রত্যাশা করছে পরিবার।