পিরোজপুরে হুমকির মুখে এলাকা ছাড়লেন বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত মানিক পশারীর ছোট বোন হেনা বেগম। ভাইয়ের বাড়ির পাশে একটি ঝুপড়িঘরে বসবাস করতেন তিনি। সম্প্রতি ভাইয়ের মরদেহ দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনায় জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের দায়ী করে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেন হেনা। এরপর থেকেই তাকে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।

মানিক পশারী পিরোজপুর সদর উপজেলার সংকরপাশা ইউনিয়নের চিথলিয়া গ্রামের সেজউদ্দীন পশারীর ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লাগাতার হুমকি-ধমকির মুখে গত ২৮ অক্টোবর এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন হেনা বেগম। তার আগেই পরিবারের কয়েকজন নিকটাত্মীয়ও নিরাপত্তাহীনতায় এলাকা ছেড়ে চলে যান। তবে বর্তমানে মানিক পশারীর ভাই চানমিয়া পশারী ও বড় বোন হাসিনা বেগমসহ পরিবারের একাংশ এখনও এলাকাতেই রয়েছেন।

মানিক পশারীর মৃত্যুর পর তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় ‘গার্ড অব অনার’ দেওয়াকে কেন্দ্র করে পিরোজপুরে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়। স্থানীয় একটি পক্ষ ওই এলাকায় তাকে দাফন না করার দাবি তোলে। ওই সময় পিরোজপুর শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে জামায়াতের নেতাকর্মীদের অবস্থান নিতে ও জড়ো হতে দেখা যায়। পরে গভীর রাতে চরম ভয় ও আতঙ্কের মধ্যে পুলিশি পাহারায় পারিবারিক কবরস্থানে বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীকে দাফন করেন স্বজনেরা। দাফনের পর থেকেই পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন।

ফোনে সাংবাদিকদের হেনা বেগম বলেন, রাতে ঝুপড়িঘরে থাকতে ভয় করে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে আমার ভাইয়ের দাফনে যারা বাধা দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে কথা বলায় আমাকে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমি প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা চাইব, তাই আপাতত এলাকা ছেড়ে দূরে সরে এসেছি।

এদিকে মানিক পশারীর আরেক ভাই পান্না পশারী খুলনার বটিয়াঘাটায় বসবাস করেন। ভাইয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে গত ২৪ অক্টোবর দুপুরে পিরোজপুরের পুরান বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছালে তাকে হুমকি দিয়ে ফেরত পাঠানো হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন। পান্না পশারী জানান, হুমকির কারণে তারা ভাইয়ের জানাজা ও দাফনে অংশ না নিয়েই পিরোজপুর ছাড়তে বাধ্য হন।

অভিযোগের বিষয়ে পিরোজপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর ভারপ্রাপ্ত আমির আব্দুর রব বলেন, আমাদের দলের পক্ষ থেকে মানিক পশারীর পরিবারের কাউকে কোনো ধরনের হুমকি দেওয়া হয়নি। শুরু থেকেই আমরা এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডে জড়িত নই। বিষয়টি নিয়ে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।

এ বিষয়ে পিরোজপুর সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক রাধেশ্যাম সরকার জানান, দাফনের পর থেকে এলাকায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। মানিক পশারীর বোন হেনা বেগম এলাকা ছেড়েছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমাদের কাছে কেউ এখনও কিছু জানায়নি।

উল্লেখ্য, একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমির ও পিরোজপুর-১ আসনের সাবেক এমপি মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন মানিক পশারী। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জামাতার বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। সেখানে প্রায় দুই মাস অসুস্থ থাকার পর গত ২৪ অক্টোবর সকালে তার মৃত্যু হয়।