ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টিকে ‘অমানুষদের জায়গা’ ও ‘সিনিয়র মাদরাসা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট এবং ক্যাম্পাসের পরিবেশ নিয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন আর কারো ভর্তি হওয়া উচিত নয় এবং এখানে শিক্ষকতা করারও কোনো প্রয়োজন নেই। তাঁর বক্তব্যে একসময় শিক্ষা ও মুক্তির আন্দোলন গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠানটির অতীত ঐতিহ্য ও বর্তমান অবস্থার বৈপরীত্য উঠে আসে। ফজলুর রহমান স্মরণ করেন, ১৯২৭, ১৯২৮, ১৯২৯ ও ১৯৩০-এর দশকে এই প্রতিষ্ঠান আবুল হোসেন, কাজী মোতাহের হোসেনসহ মুসলিম সাহিত্য সমাজের লেখক-বুদ্ধিজীবীদের জন্ম দিয়েছিল। জাতীয় অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ চৌধুরী, নীলিমা ইব্রাহিম, আহমদ শরীফ, হুমায়ুন আজাদ ও হুমায়ূন আহমেদের মতো ব্যক্তিত্বদের স্মৃতিবিজড়িত এই বিদ্যাপীঠের বর্তমান রূপ নিয়ে তিনি গভীর দুঃখ প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, যে বিশ্ববিদ্যালয় একসময় মুক্তচিন্তার কেন্দ্র ছিল, তা আজ বদলে গেছে। ক্যাম্পাসে গোলাম আযম ও মতিউর রহমান নিজামীর ছবি টাঙানোর প্রসঙ্গ টেনে তিনি একে ‘স্বাধীনতাবিরোধী ও অমানুষদের কারখানা’ হিসেবে মন্তব্য করেন। তাঁর ভাষায়, ‘কিসের লেখাপড়া? এখানে তো কারও ভর্তি হওয়া উচিত নয়। এটা তো মাদরাসা, এটা একটা সিনিয়র মাদরাসা, অমানুষদের জায়গা হয়েছে এটা। কি দরকার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করে?’