শিক্ষার্থীকে দিয়ে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করানোর মতো এক নজিরবিহীন ও গুরুতর অভিযোগে এক শিক্ষক এবং তার ছাত্রকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত শনিবার (১১ জুলাই) রাতে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলা থেকে অভিযুক্ত এই দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ঘটনার সূত্রপাত হয় সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর মাধ্যমে। উক্ত ভিডিওতে দেখা যায়, কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার আব্দুল্লাহপুর হাজী আমির আলী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. বাচ্চু মিয়া এসএসসি ২০২৬ সালের সাধারণ বিজ্ঞান বিষয়ের উত্তরপত্রগুলো নিজে যথাযথভাবে নিরীক্ষণ না করে তার এক ছাত্র মেহেদী হাসানকে দিয়ে মূল্যায়ন করিয়েছেন। পাবলিক পরীক্ষার মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় এই ধরনের চরম গাফিলতি এবং নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ড জাতীয় শিক্ষা খাতের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাকে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।
বিষয়টি নজরে আসার পরপরই শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিষয়টি বিবেচনা করেন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ও যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। মন্ত্রীর এই দ্রুত নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এবং ওই ছাত্রের বিরুদ্ধে দেবিদ্বার থানায় একটি আনুষ্ঠানিক মামলা দায়ের করেন।
তাদের বিরুদ্ধে পাবলিক পরীক্ষা অপরাধ আইন, ১৯৮০-এর ১০, ১২ এবং ১৩ ধারায় মামলা করা হয়েছে। মামলার প্রেক্ষিতে শনিবার রাতে পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক ও ছাত্রকে গ্রেপ্তার করে। এই বিষয়ে দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, মামলা দায়ের হওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ তৎপর হয় এবং শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর তাদের কুমিল্লার আদালতে হাজির করা হবে।











