রাজশাহী কলেজ প্রতিনিধি

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাজশাহী কলেজে বর্ণাঢ্য আয়োজন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় কলেজের অডিটরিয়ামে রাজশাহী কলেজ ইসলামিক কালচারাল ফোরাম (আরসিআইসি) ক্লাবের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী কলেজের আরবি ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক মো. আফাজ উদ্দীন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইব্রাহিম আলী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মো. ইব্রাহিম আলী বলেন, হজরত মুহাম্মদ (সা.) জীবনে নানা ধরনের অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। তাঁকে শারীরিকভাবে আঘাত করা হয়েছে, দেশচ্যুত করা হয়েছে। এত নির্যাতনের পরও তিনি আল্লাহর ওপর অবিচল থেকে তাঁর আদর্শ প্রচারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিলেন। শেষ পর্যন্ত তাঁর বিজয় এসেছে, ইসলামের বিজয় এসেছে।

তিনি বলেন, হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ন্যায়পরায়ণতা, নিষ্ঠা ও সত্যবাদিতা আমাদের জন্য অনুসরণীয়। মক্কা বিজয়ের পর তিনি তাঁর বিরোধীদের ক্ষমা করে দিয়েছিলেন। ইসলাম মানবতার ধর্ম। ইসলামের মানবতার সৌন্দর্যে অনুপ্রাণিত হয়ে নিপীড়িত অনেক মানুষ ইসলাম গ্রহণ করেছেন।

অধ্যক্ষ বলেন, ‘আজ তোমরা যারা নতুন প্রজন্ম, তোমরা যদি হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আদর্শে আদর্শিত হও, তাহলে আমাদের দেশ দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাবে।’ এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের জীবনে মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক আবু মো. ইউনুছ আলী। বক্তব্যে তিনি নামাজের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, হজরত মুহাম্মদ (সা.) মিরাজের সময় উম্মতের জন্য পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ নিয়ে এসেছেন। তাঁর মতে, মানুষের অনেক সমস্যার সমাধান নামাজের মাধ্যমে হতে পারে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে উপাধ্যক্ষ বলেন, নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করলে পড়াশোনায় মনোযোগ ও ভালো ফলাফল অর্জনে সহায়ক হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজকে জীবনের অংশ হিসেবে ধারণ করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধ্যাপক ড. ইফতিখারুল আলম মাসউদ। আয়োজকদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে সিরাত নিয়ে আলোচনা, পাঠ ও অনুধাবনের যে আয়োজন করা হয়েছে, তা অত্যন্ত চমৎকার। তবে মহানবী (সা.)-এর জীবন ও আদর্শকে শুধু একটি দিনের আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বছরব্যাপী চর্চা ও অনুসরণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।

তিনি বলেন, অন্য ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন ধর্মীয় দিবস পালনের মতো শুধু একটি দিনে মহানবী (সা.)-কে স্মরণ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। তাঁর জীবন ও আদর্শ অনুসরণ করাই হওয়া উচিত মূল লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানে রাজশাহী কলেজ শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক অধ্যাপক ড. হাবিবুর রহমানসহ বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।