মাগুরা শহরের কেশবমোড়ে সাকিব আল হাসানের ভাঙা বাড়িতে শুরু হয়েছে সংস্কারকাজ। অগ্নিকাণ্ড ও ভাঙচুরে ক্ষতিগ্রস্ত প্রধান ফটকসহ জানালার মেরামতে ব্যস্ত শ্রমিকরা। আর এই মেরামতের কাজ শুরু হতেই স্থানীয়দের মনে প্রশ্ন জেগেছে—তবে কি খুব শীঘ্রই দেশে ফিরছেন সাকিব আল হাসান?
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সাকিবের দোতলা বাড়িটিতে গিয়ে দেখা যায়, বেশ কয়েকজন শ্রমিক জানালার কাচ ও অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করছেন। বাড়ির বিভিন্ন স্থানে সংস্কারকাজ চলছে, তবে সেখানে পরিবারের কোনো সদস্য উপস্থিত ছিলেন না। কর্মরত শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো তথ্য দিতে রাজি হননি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই সাকিবের এই বাড়িটি অনেকটা পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। বর্তমানে তার বাবা-মা বা পরিবারের অন্য কেউ সেখানে বসবাস করছেন না। উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট দিল্লি ফরেন প্রেস ক্লাব আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে লাইভে অংশ নেওয়ার পর ওই রাতেই সাকিবের মাগুরার বাড়িতে হামলা চালানো হয়। উত্তেজিত হামলাকারীরা বাড়ির প্রধান ফটক ও ভেতরের বিভিন্ন অংশে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এছাড়া বোমা বিস্ফোরণ ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপের মাধ্যমে দরজা-জানালাসহ বাড়ির বিভিন্ন অংশের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করা হয়।
দীর্ঘদিন পর বাড়ির ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলোর সংস্কারকাজ শুরু হওয়ায় সাকিবের দেশে ফেরার আলোচনা নতুন করে সামনে এসেছে। বিশেষ করে আগামী ডিসেম্বরে দলীয় নেত্রীর সঙ্গে দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন সাকিব—এমন সংবাদের পর বাড়ি মেরামতের ঘটনাটি স্থানীয়দের কৌতূহল আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা।
তবে সাকিব দেশে ফিরছেন কি না, সে বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। এই বিষয়ে সাকিবের মামা ও স্কুলশিক্ষক বাবলুর রহমান জানান, ভাঙচুরের কারণে জানালার কাচ ভেঙে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি ঘরের ভেতরে ঢুকে পড়ছিল এবং আসবাবপত্রের ক্ষতি হচ্ছিল। এই সমস্যা সমাধানেই সাকিবের মা শিরিন রেজা শ্রমিক নিয়োগ করে জানালা মেরামতের ব্যবস্থা করেছেন বলে তিনি শুনেছেন।
সাকিব আল হাসান ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে মাগুরা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। তবে ওই বছরের ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তাকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন আক্রমণ হয় এবং পরবর্তীতে ঢাকার একটি হত্যা মামলায় তাকে আসামি করা হয়।




















