পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর প্রতি জামায়াত-শিবিরের অতিভক্তি এবং আনুগত্য নিয়ে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রাশেদ খান। তার মতে, জিন্নাহর প্রতি জামায়াত-শিবিরের এতই ভালো লাগা থাকলে তাদের অবিলম্বে বাংলাদেশ ছেড়ে পাকিস্তানের নাগরিকত্ব গ্রহণ করা উচিত। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক বিস্তারিত পোস্টে তিনি এই কঠোর মন্তব্য করেন।
রাশেদ খান তার পোস্টে গুরুতর অভিযোগ করে বলেন, জামায়াত-শিবির বাংলাদেশকে পুনরায় পাকিস্তানের সঙ্গে যুক্ত করার একটি গোপন লক্ষ্য নিয়ে সামনে এগোচ্ছে। তিনি দাবি করেন, ভবিষ্যতে যদি জামায়াত-শিবির কোনোভাবে ক্ষমতায় আসীন হতে পারে, তবে তারা বাংলাদেশকে পুনরায় পাকিস্তানের অংশ বানানোর চেষ্টা করবে। এই দাবির সপক্ষে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সংগ্রহশালার বর্তমান অবস্থার কথা উল্লেখ করেন এবং বলেন যে, এই সংগ্রহশালাই তাদের আসল উদ্দেশ্য ও পরিকল্পনার একটি বড় প্রমাণ।
পোস্টে তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, ডাকসুকে বর্তমানে সম্পূর্ণভাবে ‘জামাতিকরণ’ করা হয়েছে এবং এটি এখন কার্যত শিবিরের প্রধান কার্যালয়ের মতো ব্যবহৃত হচ্ছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ডাকসু সংগ্রহশালায় দেশবিরোধী ও ভাষাবিরোধীদের ছবি টাঙানো হয়েছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিকামী চেতনার পরিপন্থী। ছবি টাঙানোর প্রসঙ্গ টেনে তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন, যদি সত্যিই ছবি টাঙাতে হয়, তবে ১৯৮১ সালে বায়তুল মোকাররমের সামনে সাধারণ জনগণের দ্বারা গোলাম আযমকে জুতা নিক্ষেপের সেই ঐতিহাসিক ছবিটিও সেখানে টাঙানো উচিত।
পাকিস্তানের জাতির পিতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর প্রসঙ্গ টেনে তিনি প্রশ্ন তোলেন, বাংলাদেশের মাটিতে থেকে দেশবিরোধী শক্তিকে প্রাসঙ্গিক করার দুঃসাহস জামায়াত-শিবির কোত্থেকে পায়? তিনি সতর্ক করে বলেন, সময় থাকতে এই অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে শক্তিশালী রাজনৈতিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পারলে, তারা বাংলাদেশকে পুনরায় পাকিস্তানের একটি অঙ্গরাজ্যে পরিণত করে ছাড়বে।
এর আগে ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি প্রদর্শন নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়। এই বিতর্কের মুখে সোমবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগের শিক্ষার্থী আবু তৈয়ব হাবিলদার সংগ্রহশালায় গিয়ে তিনটি ছবি ছিঁড়ে তীব্র প্রতিবাদ জানান। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে জিন্নাহর অবস্থান ছিল চরম বিরোধপূর্ণ, তাই তার ছবি ডাকসু সংগ্রহশালায় রাখা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এই ঘটনার পাশাপাশি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলও ডাকসু সংগ্রহশালায় জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। সংগঠনটির অভিযোগ, ডাকসুর বর্তমান পরিষদ শিক্ষার্থীদের গণআকাঙ্ক্ষা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তিকামী চেতনাকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে ‘পাকিস্তান প্রেম’ প্রকাশ করছে, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।















