দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন। অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি শুক্রবার জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে তার পদত্যাগপত্র জমা দেন, যা ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির এই পদত্যাগের ফলে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব সামলাবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার।

তার জমা দেওয়া পদত্যাগপত্রে মো. সাহাবুদ্দিন উল্লেখ করেছেন, ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল তিনি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন এবং অদ্যাবধি নিষ্ঠা, সততা ও সংবিধানের প্রতি পূর্ণ আনুগত্যের সঙ্গে তার দায়িত্ব পালন করে এসেছেন। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন সরকারের পতনের পর দেশে যে শাসনতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক সংকটের সৃষ্টি হয়েছিল, তা মোকাবিলায় তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। তিনি লিখেছেন, সাংবিধানিক সংকট থেকে উত্তরণের অভিপ্রায়ে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে তিনি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত কামনা করেন। অতঃপর আপিল বিভাগের পরামর্শক্রমে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়, যা রাজনৈতিক দলসমূহের সাথে প্রয়োজনীয় আলোচনা ও পরামর্শের মাধ্যমে জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন আয়োজন করে। সেই নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতেই বর্তমান সরকার গঠিত হয়ে দেশ পরিচালনা করছে এবং বর্তমানে সরকারি ও বিরোধী দলগুলো গণতান্ত্রিক চর্চার মধ্য দিয়ে জাতীয় সংসদে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করছে। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, তার ইতিবাচক ও সুদৃঢ় ভূমিকার কারণেই দেশে কোনো বড় ধরনের সাংবিধানিক বিপর্যয় ঘটেনি।

তবে দীর্ঘদিনের শারীরিক অসুস্থতা তাকে এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে। পদত্যাগপত্রে তিনি জানান, তিনি বর্তমানে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং কিডনির জটিলতায় ভুগছেন। এর আগে তার হৃদযন্ত্রের বাইপাস সার্জারি করা হয়েছে। সম্প্রতি স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তার শরীরে 'অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি' (Autonomic Neuropathy) নামক একটি জটিল রোগ শনাক্ত হয়েছে। এই রোগের প্রভাবে তিনি মাঝেমধ্যে ক্ষণিক অচেতন হয়ে পড়েন। শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যের কারণে রাষ্ট্রপতির মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী পদত্যাগ করেছেন।

সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে নিয়ম অনুযায়ী, আগামী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদকে দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে।