দেশের বর্তমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে কোনো ধরনের লংমার্চের পরিবর্তে কার্যকর ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, কেবল গাড়ির লংমার্চের মাধ্যমে এই জটিল সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি বিরোধীদলের কর্মসূচির তীব্র সমালোচনা করেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে গাড়ির লংমার্চ কোনো কার্যকর পদ্ধতি হতে পারে না। যদি লংমার্চের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করা যেত, তবে সরকারই সবার আগে এমন উদ্যোগ নিত।’ তিনি আক্ষেপ করে বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ যখন চরম ভোগান্তির মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তখন সরকার বিরোধীদলের কাছ থেকে গঠনমূলক সহযোগিতার প্রত্যাশা করেছিল। কিন্তু সহযোগিতার বদলে তারা একটি বড় গাড়ির লংমার্চ আয়োজন করেছে, যা সমস্যার সমাধানে কোনো ভূমিকা রাখে না।

পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের কার্যপদ্ধতির সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলা করার দোহাই দিয়ে অফিসের সময়সূচি পরিবর্তন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি বৃদ্ধি এবং ব্যাংক লেনদেনের সময়ে পরিবর্তন আনা হয়েছিল। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান সরকার কোনো ধরনের অজুহাত দেখিয়ে জনগণের সমস্যা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে চায় না, বরং স্থায়ী সমাধানের পথ খুঁজছে।

বিদ্যুৎ খাতের অনিয়ম প্রসঙ্গে কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের কঠোর সমালোচনা করেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, বিদ্যুৎ সংকট দ্রুত মোকাবিলায় কুইক রেন্টাল ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু এর মাধ্যমে মুষ্টিমেয় কিছু মানুষকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে রাষ্ট্র একদিকে যেমন ঋণগ্রস্ত হয়েছে, অন্যদিকে আর্থিকভাবে চরম দুর্বল হয়ে পড়েছে।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি উল্লেখ করেন, কিছু অশুভ শক্তি জনগণকে অযথা উত্তেজিত করে ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্য হাসিল করার অপচেষ্টা চালিয়েছে। সবশেষে সংসদ সদস্যদের দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ তাদের মূল্যবান ভোট দিয়ে সদস্যদের সংসদে পাঠিয়েছেন। সরকারি দল হোক বা বিরোধীদল—সংসদের প্রতিটি সদস্যের প্রধান দায়িত্ব হলো দেশের প্রকৃত পরিস্থিতি ও বাস্তব চিত্রটি সততার সাথে জনগণের সামনে তুলে ধরা।