ভোক্তা অধিকার রক্ষা এবং বাজার মনিটরিং ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও গতিশীল করতে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সম্প্রতি জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ঢাকা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল জব্বার মণ্ডল ও তার দক্ষ টিমকে সাক্ষাতের আমন্ত্রণ জানান প্রধানমন্ত্রী। এই সাক্ষাতের মূল উদ্দেশ্য ছিল ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কার্যক্রমের বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করা এবং একে আরও কার্যকর করার উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা।
গত সোমবার (৬ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, বিএসটিআই এবং সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে ভেজালবিরোধী অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী উচ্চপদস্থ ও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উপস্থিত কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেন এবং মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম আরও বেগবান করার জন্য প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা প্রদান করেন।
ভোক্তা অধিকার রক্ষায় বিদ্যমান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী একটি উচ্চপর্যায়ের তিন সদস্যের কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন। এই কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন যে, আগামী এক মাসের মধ্যে এই কমিটি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এবং দ্রুত সমাধানযোগ্য ও দীর্ঘমেয়াদি সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সুপারিশসহ একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তাঁর কাছে জমা দেবে।
সভায় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এবং বিএসটিআই-এর কর্মকর্তারা তাদের পেশাগত কার্যক্রম পরিচালনায় নানাবিধ প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে জেলা পর্যায়ে প্রয়োজনীয় জনবল বৃদ্ধি, উন্নত ও আধুনিক পরীক্ষাগার স্থাপন এবং মাঠপর্যায়ে অভিযান পরিচালনার জন্য অত্যাধুনিক সরঞ্জাম সরবরাহের দাবি জানান তারা। এছাড়া, বিভিন্ন প্রভাবশালী সিন্ডিকেট ও অসাধু ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর সময় কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করা হয়। সেই সঙ্গে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ক্ষমতা আরও বৃদ্ধির দাবি জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
কর্মকর্তাদের এসব দাবি ও সমস্যার কথা শোনার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, "যেকোনো কাজে সমস্যা থাকবেই। তবে সেই সমস্যার কথা বলে থেমে থাকলে চলবে না, বরং প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েই আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে হবে। আমরা যদি বসে থাকি, তবে লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে না।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বিশ্বের অনেক দেশ একসময় বাংলাদেশের চেয়েও অনুন্নত ছিল, কিন্তু তারা দৃঢ় সংকল্প ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে আজ অনেক দূর এগিয়ে গেছে। আমাদেরও একইভাবে সামনে এগিয়ে যেতে হবে এবং দেশের মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
এই বিশেষ সাক্ষাতের পর সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল জব্বার মণ্ডল জানান, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাদের কাজের প্রশংসা করেছেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছেন। তবে বিশেষ কোনো বার্তার বিষয়ে তিনি বর্তমানে বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি। উল্লেখ্য, আব্দুল জব্বার মণ্ডল দীর্ঘদিন ধরে বাজারে অতিরিক্ত দাম এবং ভেজাল পণ্যের বিরুদ্ধে লড়াই করে আসছেন। অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে আনতে এবং সাধারণ ক্রেতাদের জন্য ন্যায্য দাম নিশ্চিত করতে তিনি নিরলসভাবে কাজ করছেন। তার ধৈর্যশীল ও শান্ত স্বভাবের পাশাপাশি কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপের কারণে বিক্রেতারা সঠিক দামে পণ্য বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন, যার ফলে সাধারণ ক্রেতারা সরাসরি লাভবান হচ্ছেন।











