মাঠের জাদুকরী পারফরম্যান্সের পাশাপাশি মাঠের বাইরের বিলাসবহুল জীবনযাপনের জন্যও বিশ্বজুড়ে পরিচিত ব্রাজিলিয়ান তারকা ফুটবলার নেইমার জুনিয়র। ফুটবলের প্রতি তার ভালোবাসার মতোই প্রবল তার শৌখিন জীবনযাপনের প্রতি আগ্রহ। তার সবচেয়ে বড় শখ হলো দামী ও দুর্লভ ঘড়ি সংগ্রহ করা। বিশ্বসেরা সব ব্র্যান্ডের এক বিশাল কালেকশন রয়েছে এই তারকার সংগ্রহে, যার মোট বাজারমূল্য প্রায় ৮০ লাখ মার্কিন ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯৬ কোটি টাকা।
সম্প্রতি বিশ্বকাপের বিরতির সময় নতুন একটি বিলাসবহুল ঘড়ি কিনে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন তিনি। প্রায় ১০ লাখ ডলার ব্যয়ে কেনা এই নতুন ঘড়িটির নাম ‘অ্যাস্ট্রোনোমিয়া ড্রাগন অ্যান্ড টাইগার’। প্রখ্যাত ব্র্যান্ড জ্যাকব অ্যান্ড কোং-এর মালিক জ্যাকব আরাবোর কাছ থেকে সরাসরি কেনা এই বিশেষ ঘড়িটি তৈরি করা হয়েছে সাদা সোনা দিয়ে এবং এতে বসানো রয়েছে ২৮৬টি উজ্জ্বল হীরা। ঘড়িটির শৈল্পিক নকশায় হাতে তৈরি ড্রাগন ও বাঘের ভাস্কর্যের পাশাপাশি নীলকান্তমণি ও পান্না দিয়ে বিভিন্ন গ্রহের প্রতিরূপ ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, যা একে দিয়েছে এক অনন্য রূপ।
নেইমারের ঘড়ির সংগ্রহে থাকা সবচেয়ে মূল্যবান ও বিরল মডেলগুলোর একটি হলো ‘রিচার্ড মিল আরএম ৬৮-০১ সিরিল কঙ্গো’। বিশ্বজুড়ে এই মডেলের মাত্র ৩০টি ঘড়ি রয়েছে, যার একটির মূল্যই প্রায় ১৬ লাখ পাউন্ড। এছাড়া তার সংগ্রহে ২ লাখ পাউন্ডের বেশি দামের অন্তত ছয়টি ঘড়ি রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ক্যাসিনো টুরবিয়োঁ, ওপেরা গডফাদার, এপিক এসএফ২৪ ওয়ার্ল্ড টাইম টাইটানিয়াম এবং বুগাত্তি শিরন টুরবিয়োঁ।
ঘড়ির সংগ্রহের নেশা ছাড়াও নেইমারের পছন্দের তালিকায় রয়েছে রোলেক্সের মতো প্রিমিয়াম ব্র্যান্ড। এমনকি সুপারহিরো ব্যাটম্যানের থিমে তৈরি দুটি বিশেষ কাস্টম ঘড়িও রয়েছে তার সংগ্রহে। তবে মাঠের বাইরের এই জৌলুসের পাশাপাশি নেইমারকে দীর্ঘ সময় লড়াই করতে হয়েছে ইনজুরির সঙ্গে। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইস ইনাসিও লুলা দা সিলভার মতো ব্যক্তিদের মন্তব্যের মুখে পড়লেও, এখন তিনি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে মাঠে ফেরার অপেক্ষায়। ভক্তরা মনে করছেন, বিশ্বকাপের কোনো এক গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে নেইমার তার অসাধারণ সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে আবারও ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেবেন এবং ব্রাজিলকে ষষ্ঠ শিরোপা জয়ে নেতৃত্ব দেবেন।











