মাগুরা-২ আসনে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল আরও ঘনীভূত হয়েছে। কেন্দ্রীয় যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবদলের সদস্যসচিব রবিউল ইসলাম নয়ন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, তিনি সংসদ সদস্য ও সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতা করতে আগ্রহী নন। বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) রাত ৯টার দিকে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার পানিঘাটা গ্রামে নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন।

নিতাই রায়ের সঙ্গে আলোচনায় বসার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে রবিউল ইসলাম নয়ন সরাসরি তা প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, “আমি নিতাই রায়ের সঙ্গে বসতে চাই না। এর কারণ হলো, আমি সরকারের কোনো অংশ নই। তাহলে আমি কেন তাঁর সঙ্গে বসব? নিতাই রায় যদি সমঝোতা করতে চান, তবে তাঁকে জনগণের সঙ্গে বসতে হবে। তাঁর অনুসারীরা জনগণের টাকা-পয়সা লুটপাট করে আত্মসাৎ করছে। তিনি জনগণের কাছে দায়বদ্ধ, তাই তাঁর উচিত সাধারণ মানুষের সাথে আলোচনা করা।”

নিজের রাজনৈতিক লক্ষ্য সম্পর্কে নয়ন আরও বলেন, “আমি সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আর তিনি কেবল সরকারি সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেন, সার্কিট হাউসে ওঠেন।” শুধু রাজনৈতিক বিরোধ নয়, সংস্কৃতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত আচরণ নিয়েও গুরুতর অভিযোগ তোলেন রবিউল ইসলাম নয়ন। তিনি দাবি করেন, নিতাই রায় চৌধুরীর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে। নয়নের অভিযোগ, তিনি প্রায়ই মেয়েদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় আলাপচারিতায় ব্যস্ত থাকেন এবং অনেক ক্ষেত্রে অন্যদের সরিয়ে দিয়ে পাঁচ-সাত ঘণ্টা সময় ব্যয় করেন।

স্থানীয় বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, মাগুরা-২ আসনে দলটির অভ্যন্তরে দীর্ঘকাল ধরে এই দ্বন্দ্বে বিভক্ত রাজনীতি চলছে। উপজেলা বিএনপির একটি বড় অংশ নিতাই রায় চৌধুরীর অনুসারী, অন্যদিকে অপর একটি অংশ রবিউল ইসলাম নয়নের প্রতি অনুগত। এই দুই পক্ষের পারস্পরিক বিরোধের কারণে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রমে ব্যাপক প্রভাব পড়ছে।

সম্প্রতি গত ২৪ আগস্ট মহম্মদপুর উপজেলায় বিএনপির এই দুই বিবদমান পক্ষের মুখোমুখি অবস্থান এবং পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, সম্ভাব্য বড় ধরনের সংঘর্ষ এড়াতে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে মহম্মদপুর থানা এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ, বিজিবি ও র‍্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়। পরবর্তীতে জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতাদের আশ্বাসে উভয় পক্ষের নেতা-কর্মীরা তাদের পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি স্থগিত করতে রাজি হন। এছাড়া জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও এই অভ্যন্তরীণ বিরোধ দ্রুত সমাধানের বিষয়ে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, যাতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।