ধানমন্ডিতে দোতলা থেকে পড়ে গুরুতর আহত সাংবাদিক শাফায়েত হোসেন: ভবনের নিরাপত্তা ও অনুমোদন নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
রাজধানীর ধানমন্ডি ৯ নম্বর রোডের একটি ভাড়া বাসায় রাতে দোতলা থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছেন সাংবাদিক মোহাম্মদ শাফায়েত হোসেন। এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনায় তাঁর ডান পায়ে মারাত্মক আঘাত লেগেছে। ঘটনার পর স্থানীয় স্বজন এবং সহকর্মীদের তৎপরতায় তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
জানা গেছে, পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে সাংবাদিক শাফায়েত হোসেন প্রায়ই রাত ১১টা থেকে ১২টার দিকে বাসায় ফেরেন। ধানমন্ডি ৯ নম্বর রোডের একটি বহুতল ভবনে তিনি ভাড়া থাকেন। তাঁর অভিযোগ, রাতের বেলা বাড়ির মূল গেটে প্রায়ই তালা দেওয়া থাকে, যা বাসিন্দাদের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ। ঘটনার দিন তিনি তাঁর গাড়িটি মেরামতের জন্য গ্যারেজে রেখে পায়ে হেঁটে বাসায় ফেরেন। গাড়ির চাবি তাঁর কাছে না থাকায় তিনি গেটের তালা খোলার কোনো উপায় পাননি। বাসায় ফিরে তিনি দেখতে পান মূল গেটটি তালাবদ্ধ। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে তিনি গেট খোলার জন্য ডাকাডাকি করেন, কিন্তু কোনো সাড়া পাননি বলে জানান তিনি।
শাফায়েত হোসেনের দাবি, দীর্ঘক্ষণ ধরে সাহায্যের জন্য চিৎকার করা সত্ত্বেও বাড়ির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিটি গেট খুলে দেননি। একপর্যায়ে নিরুপায় হয়ে তিনি দোতলায় ওঠার চেষ্টা করেন। বাড়িটির দোতলার একটি অংশে তখন নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ হয়নি এবং সেখানে ইটের গাঁথনি করা ছিল। গেটের ওপর দিয়ে দোতলায় ওঠার চেষ্টা করার সময় তিনি সেই ইটের গাঁথনি ধরে উপরে উঠতে যান। কিন্তু সেই মুহূর্তে হঠাৎ দুটি ইট খুলে নিচে পড়ে যায় এবং ভারসাম্য হারিয়ে তিনি সজোরে নিচে পড়ে যান। এতে তাঁর ডান পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে।
আহত অবস্থায় তিনি নিচ থেকে সাহায্যের জন্য ক্রমাগত ডাকাডাকি করলেও তাঁর অভিযোগ, তখনও গেট খোলা হয়নি। পরবর্তীতে তাঁর বড় ভাই শহীদ (যিনি নবোদয় হাউজিং এলাকায় বসবাস করেন) এবং তাঁর সহকর্মী সাংবাদিক ফিরোজ আহমেদ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁকে উদ্ধার করেন। দ্রুত তাঁকে রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁর ডান পায়ের আঘাত পরীক্ষা করে জানান, আঘাতটি বেশ গভীর এবং তাঁকে অন্তত দুই সপ্তাহ হাসপাতালে ভর্তি থেকে নিবিড় চিকিৎসা নিতে হবে। চিকিৎসকদের মতে, যথাযথ চিকিৎসা এবং পূর্ণ বিশ্রাম নিলে এক থেকে দুই মাসের মধ্যে তিনি পুনরায় সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে দুর্ঘটনার পর ভবনের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন আহত সাংবাদিক শাফায়েত হোসেন। গুরুতর আহত অবস্থায় সাহায্যের জন্য আকুতি জানালেও গেট খোলা হয়নি বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এই পুরো বিষয়টিকে তিনি চরম 'অমানবিক আচরণ' হিসেবে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
শাফায়েত হোসেন আরও অভিযোগ করেন যে, ওই ভবনের নির্মাণকাজ এবং রাজউকের অনুমোদন নিয়ে এলাকায় দীর্ঘ দিন ধরে বিভিন্ন প্রশ্ন রয়েছে। তাঁর দাবি, রাজউকের অনুমোদনপত্র, ভবন নির্মাণের নির্ধারিত নিয়মনীতি এবং সরকারি রাজস্ব সংক্রান্ত বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য তিনি ইতিমধ্যে সংগ্রহ করেছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য নেওয়া প্রয়োজন। স্থানীয় এলাকাবাসীর কাছ থেকেও ভবনের ব্যবস্থাপনা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আচরণ নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে তিনি দাবি করেন। এই পুরো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত সত্য বের করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সংশ্লিষ্ট থানা, রাজউক কর্তৃপক্ষসহ দায়িত্বশীল সরকারি দপ্তরগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সাংবাদিক শাফায়েত হোসেন। একই সঙ্গে তিনি মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থা এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে বিষয়টি অবহিত করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
সাংবাদিক মোহাম্মদ শাফায়েত হোসেন বলেন, তিনি দীর্ঘ সময় ধরে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে কাজ করছেন। নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ভবনের নিরাপত্তা ও অনুমোদনসংক্রান্ত অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। তিনি আরও বলেন, কোনো ভবনে নির্মাণকাজ চলাকালীন যথাযথ নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং বাসিন্দাদের জরুরি পরিস্থিতিতে সহযোগিতা করা বাড়ির মালিক ও ব্যবস্থাপনার নৈতিক ও আইনি দায়িত্ব। ভবিষ্যতে যাতে আর কোনো নাগরিক এমন দুর্ঘটনার শিকার না হন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন। এই কঠিন সময়ে তিনি সবার কাছে তাঁর দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া প্রার্থনা করেছেন।
















