জাতীয় সংসদের হুইপ এবং নাটোর-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেছেন, আওয়ামী লীগ তাদের দীর্ঘ ১৭ বছরের দুঃশাসনে বাংলাদেশকে অর্থনৈতিকভাবে নিঃস্ব করে দিয়ে ভারতে পালিয়ে গেছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, দেশের মানুষের সাথে এই চরম বিশ্বাসঘাতকতার জন্য আওয়ামী লীগের কোনো ক্ষমা নেই।
শনিবার বেলা ১১টার দিকে নাটোর জেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহিম নেওয়াজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং অসহায় ও দুস্থ রোগীদের মাঝে চেক বিতরণ করা হয়।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে দুলু অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ আমলে দলের প্রভাবশালী নেতাকর্মী এবং ফ্যাসিস্ট হাসিনার আত্মীয়স্বজনদের লুটপাটের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য পরিকল্পিতভাবে দেশে বড় বড় মেগা প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, এসব প্রকল্পে লোক দেখানো কাজ করে হাজার হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে এবং সেই অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে। দেশের বাইরে বাড়ি-গাড়ি এবং ব্যাংক ব্যালেন্স গড়ে তুলেছেন তারা। তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এখন আর সেই পুরনো দিন ফিরে আসবে না। সরকারি অর্থের অপচয় বা আত্মসাতের চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্টদের জেলে পাঠানো হবে।
নাটোরের স্থানীয় উন্নয়ন নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, নাটোরের মাটিতে আর কোনো সন্ত্রাসী বা চাঁদাবাজের ঠাঁই হবে না। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, খুব শীঘ্রই নাটোরে একটি আধুনিক মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে, যাতে স্থানীয় শিক্ষার্থীরা উন্নত শিক্ষা পায়। পাশাপাশি শিক্ষিত বেকার যুবসমাজের কর্মসংস্থানের স্থায়ী ব্যবস্থা করে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতে খায়ের আলম, জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী পারভেজুর রহমান, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শাহীন ও সাইফুল ইসলাম আফতাব, নাটোর পৌরসভার সাবেক মেয়র কাজী শাহ আলম ও এমদাদুল হক আল মামুন এবং নাটোর জেলা যুবদলের সভাপতি এ হাই তালুকদার ডালিম প্রমুখ।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে দুলু বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের সুবিধাবাদী নেতারা বর্তমানে প্রতিবেশী দেশে অবস্থান করে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের জাল বুনছেন। তারা দেশের সরকার ও জনগণের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছেন। এই অপতৎপরতা সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সর্বোচ্চ সজাগ থাকতে হবে।
সংখ্যালঘু ইস্যু নিয়ে তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ আমলেই বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি সংখ্যালঘু নির্যাতন এবং তাদের জমিজমা ও বাড়ি দখলের ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে নিজেদের আমানত মনে করে এবং তাদের নিরাপত্তা ও যত্নের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। তা সত্ত্বেও ভারতে অবস্থানরত হাসিনার সহযোগীরা মিথ্যা প্রচার করছে যে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন চলছে। রংপুরে হিন্দু দুই যুবকের হাতে এক হিন্দু শিক্ষকসহ পরিবারের চারজন খুনের ঘটনাকে তারা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে সংখ্যালঘু নির্যাতন হিসেবে প্রচার করে পানি ঘোলা করতে চাইছে। দুলু বলেন, বাংলাদেশের মানুষ আওয়ামী লীগের এই হীন ষড়যন্ত্র সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত এবং যেকোনো ধরনের ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়া হবে।


















